Wednesday, June 15, 2016

আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামী ১০ জুলাই ২০১৬।

আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামী ১০ জুলাই ২০১৬। দেশের সর্ববৃহৎ ও সুপ্রাচীন রাজনৈতিক দলটির সম্মেলন কেবল দলটির জন্যই নয়, দেশের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্ববহ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
বর্তমানে দলটি ক্ষমতায় থেকে দেশ, জাতি ও জনগণের উন্নতি ও কল্যাণের লক্ষ্যে জনগণকে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মাত্র দুই বছরের মধ্যে ১৯৪৯ সালের ২৩ ও ২৪ জুন প্রগতিবাদী ও তরুণ মুসলিম লীগ নেতাদের উদ্যোগে পূর্ব বাংলার গণমানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিনিধিত্বকারী গণরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দলটির জন্ম হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সুদীর্ঘ প্রায় ৬৭ বছরের ইতিহাসে আমাদের জাতির রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক এমন কোনো সুকীর্তি ও অর্জন নেই, যাতে আওয়ামী লীগ দলটির নেতৃত্বের ভূমিকা ছিল না। জনগণের ইচ্ছে-আকাক্সক্ষা ও কর্তব্যের রক্ষক, ধারক-বাহক এবং স্বার্থক রূপকার ও পরিচালক হচ্ছে আওয়ামী লীগ।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং এর আগে দুই নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা ভাসানী আর পরে জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামানসহ অগণিত কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মী-সমর্থক-শুভানুধ্যায়ীদের ত্যাগ-তিতিক্ষা, মেধা-শ্রম, রক্ত-ঘাম, স্বপ্ন-কর্মে দলটি আমাদের জাতির ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। এরই ধারাবাহিকতায় নানা বাধা-বিপত্তি ও চড়াই-উৎরাই পার হয়ে বর্তমান দিনগুলোতে দলটি বঙ্গবন্ধু-কন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষমতায় থেকে অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল উদার গণতান্ত্রিক ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে তোলার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।
নিতান্ত অন্ধ ও হীন উদ্দেশ্যপূর্ণ ব্যক্তি গোষ্ঠী মহল ও দল ছাড়া দেশবাসী সকলেই স্বীকার করবেন যে, আওয়ামী লীগের ইতিহাস হচ্ছে বাংলাদেশেরই ইতিহাস। উপমহাদেশ তো বটেই এবং এমন কি বিশ্বেও এমন ঐতিহ্যমণ্ডিত গণ-আস্থাসম্পন্ন ও সুপ্রাচীন রাজনৈতিক দল বিরল; যে দল হত্যা-খুন, জেল-জুলুম, হামলা-মামলা, প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সামরিক আইনের বিধিনিষেধ, পবিত্র ধর্মকে রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশে ব্যবহারীদের অপপ্রচার এবং দেশি-বিদেশি কায়েমি স্বার্থবাদীদের ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত প্রতিহত করে জনগণের মধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। সুদীর্ঘ এই সময়কালে প্রতিক্রিয়া ও একাত্তরের পরাজিত শক্তি আওয়ামী লীগকে বাংলার মাটি থেকে উৎখাত করার সবৈব ও সর্বাত্মক হীন প্রচেষ্টা ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে গেছে এবং যাচ্ছে। কিন্তু বাংলার মাটি ও মানুষের কাছে আওয়ামী লীগ প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবেই টিকে আছে।
পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতা এবং ৩ নভেম্বর তার সহযোগী জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর পরাজিত শক্তি অপপ্রচার-মিথ্যা প্রচার চালিয়ে এটা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল যে, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের দশা হবে ঠিক পাকিস্তানের মুসলিম লীগের মতো। মুসলিম লীগের যেমন মৃত্যু ঘটেছিল, তেমনি আওয়ামী লীগেরও দিন শেষ হবে। বাংলাদেশকে ‘মিনি পাকিস্তান’ বানাতে চেয়েছিল একাত্তরের পরাজিত জাতীয় শত্রুরা, তাই পাকিস্তান ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারেনি ওরা। কিন্তু এটাই বাস্তব যে, আজ জনগণের সমর্থন, আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণœ রেখে দেশপ্রেমের গভীর দায়িত্ববোধ নিয়ে ক্ষমতায় থেকে সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে দলটি দেশ, জাতি ও জনগণের সেবা করে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই তাই এই দলের সম্মেলনকে ঘিরে দেশবাসী বিপুলভাবে আলোড়িত হয়ে উঠছে।
দুই
বিগত ৬৭ বছরে দলটির ১৯টি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর দলটির সম্মেলন প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হওয়ার গঠনতান্ত্রিক বিধান ছিল। প্রতিষ্ঠার পরের বছর ১৯৫০ সালে মুদ্রিত গঠনতন্ত্র থেকে জানা যায়, প্রতিবছর জেলা থেকে নির্বাচিত ১ হাজার ৪৩ জন কাউন্সিলর নিয়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান চালু ছিল। পরবর্তীতে ১৯৫৫ সালের ২১ থেকে ২৩ অক্টোবর কাউন্সিল অধিবেশনে গৃহীত গঠনতন্ত্রে দুই বছর পরপর কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান চালু হয়। এখন গঠনতন্ত্রে তিন বছর পরপর কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান চালু হয়েছে। ইতিহাসের গভীরে গিয়ে প্রাণরস আহরণের জন্য ২০তম সম্মেলন অনুষ্ঠানের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে আওয়ামী লীগের নেতা-সদস্য-কর্মী-সমর্থক-শুভানুধ্যায়ী ও জনগণকে আজ স্মরণে আনতে হবে অতীতে কোন পরিবেশে কবে কোথায় কোন কর্তব্য সাধনে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সম্মেলনগুলো জাতি ও জনগণের জীবনে কোন তাৎপর্য বয়ে এনেছে। এ বিষয়টি অনুধাবনের জন্য বিগত সময়ের ১৯টি কাউন্সিল ও ২টি বিশেষ কাউন্সিল তথা সম্মেলনের তালিকা নিম্নে প্রদান করা হলো।
* প্রতিষ্ঠা সম্মেলন : ২৩ ও ২৪ জুন, ১৯৪৯; ঢাকা, রোজ গার্ডেন। সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক। প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান। পরবর্তীতে তিনি হন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক।
* দ্বিতীয় সম্মেলন : ১৪-১৬ নভেম্বর, ১৯৫৩; ঢাকা, মুকুল সিনেমা হল। সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান।
* তৃতীয় সম্মেলন : ২১-২৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৫; ঢাকা, রূপমহল সিনেমা হল। সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান।
* চতুর্থ সম্মেলন : ৭-৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৭; কাগমারি, টাঙ্গাইল। সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান।
* বিশেষ সম্মেলন : ১৩-১৪ জুন, ১৯৫৭; ঢাকা, শাবিস্তান সিনেমা হল। সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান। পরবর্তীতে সভাপতি পদত্যাগ করে ন্যাপ গঠন করলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ।
* পঞ্চম সম্মেলন : ৬-৮ মার্চ, ১৯৬৪; ঢাকা, ইডেন হোটেল। সভাপতি মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ ও সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান।
* ষষ্ঠ সম্মেলন : ১৮-২০ মার্চ, ১৯৬৬। ঢাকা, হোটেল ইডেন। সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন আহমদ।
* সপ্তম সম্মেলন : ১৯ আগস্ট, ১৯৬৭; ঢাকা, পুরানা পল্টন আওয়ামী লীগ অফিস। সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন আহমদ।
* অষ্টম সম্মেলন : ৪ জুন, ১৯৭০; ঢাকা, হোটেল ইডেন। সভাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন আহমদ।
* নবম সম্মেলন : ৭-৮ এপ্রিল, ১৯৭২; ঢাকা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। সভাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান।
* দশম সম্মেলন : ১৮-২০ জানুয়ারি, ১৯৭৪; ঢাকা। সভাপতি এএইচএম কামারুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান।
* ১১তম সম্মেলন : ৩-৪ এপ্রিল, ১৯৭৭; ঢাকা, ইডেন হোটেল। আহ্বায়ক সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দিন। তবে, এর অগে ১৯৭৬ সালে দল পুনরুজ্জীবনের পর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে মহিউদ্দিন আহমেদ ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী দায়িত্ব পালন করেন।
* ১২তম সম্মেলন : ৩-৫ মার্চ, ১৯৭৮; ঢাকা, সভাপতি আবদুল মালেক উকিল ও সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক।
বিশেষ সম্মেলন : ২৩-২৪ নভেম্বর; ১৯৭৮; ঢাকা।
* ১৩তম সম্মেলন : ১৩-১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮১; ঢাকা, হোটেল ইডেন। সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক। সাধারণ সম্পাদক অন্য দল গঠন করে বহিষ্কৃত হলে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হন।
* ১৪তম সম্মেলন : ১-৩ জানুয়ারি, ১৯৮৭; ঢাকা, সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।
* ১৫তম সম্মেলন : ১৯, ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বর, ১৯৯২; ঢাকা, সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান।
* ১৬তম সম্মেলন : ৬-৭ মে, ১৯৯৭; ঢাকা, সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান।
* বিশেষ কাউন্সিল : ২৩ জুন, ২০০০; ঢাকা।
* ১৭তম সম্মেলন : ২৬ ডিসেম্বর, ২০০২; ঢাকা। সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল জলিল।
* ১৮তম সম্মেলন : ২৪ জুলাই ২০০৯; ঢাকা, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার। সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
* ১৯তম সম্মেলন : ২৯ ডিসেম্বর, ২০১২; ঢাকা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।*
(* বিভিন্ন পুস্তক ও দলিল অনুসরণ করে তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারিখ বা সম্মেলন কত দিনের হয়েছে প্রভৃতি নানাভাবে লেখা রয়েছে, ঢাকায় কোথায় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সুনির্দিষ্ট করে লেখকের জানার সীমাবদ্ধতার কারণে তা এখানে তুলে ধরা সম্ভব হয় নি। এই তালিকা সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে হয়। এ বিষয়ে জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।)
উল্লিখিত তালিকা লক্ষ্য করলেই এটা সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে, দেশের ঐতিহ্যবাহী দলটি গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অনেক সময়েই সময়মতো সম্মেলন অনুষ্ঠিত করতে পারে নি। এর কারণ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আমলে সামরিক শাসনে রাজনীতি বন্ধ থাকা, দমনপীড়ন, আন্দোলন- সংগ্রাম, হত্যা-ক্যুয়ের মাধ্যমে দলকে নেতৃত্বশূন্য করার প্রচেষ্টা প্রভৃতি সব অনিবার্য কারণে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে পারে নি। তবে যখনই আওয়ামী লীগ সময় ও সুযোগ পেয়েছে, তখনই সম্মেলন অনুষ্ঠিত করেছে। প্রয়োজনে বিশেষ কাউন্সিল করেছে। সম্মেলন যথাসময়ে করার বিষয়ে অন্য দলগুলোর তুলনায় আওয়ামী লীগ এগিয়ে আছে।
তিন
আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব কখনও এটা বিস্মৃত হয় নি যে, দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের চর্চা, মতামতের ভিত্তিতে কর্মসূচি ও গঠনতন্ত্র প্রণয়ন, প্রবীণ-নবীন সমন্বয়ে যোগ্যতমদের নিয়ে নেতৃত্ব নির্বাচন প্রভৃতি করার জন্য গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যথাসময়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত করা অপরিহার্য। প্রতিষ্ঠা সম্মেলন থেকে ১৯তম সম্মেলনগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে, প্রতিটি সম্মেলনই আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও সংগঠনের জন্য আর সেই সাথে দেশের জন্য অবদান রেখেছে। প্রতিটি সম্মেলনকেই মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা চলে। আর এমন একটি সম্মেলনও খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে দেশ ও জনগণের আর সেই সাথে দলের প্রয়োজনে সম্মেলন কোনো পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হয় নি। জন্মলগ্নের অঙ্গীকার অনুযায়ী লক্ষ্যের প্রতি অবিচল ও স্থির থেকে কৌশলে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সাহসী ও নমনীয় থাকার ঐতিহ্য বরাবরই আওয়ামী লীগ অনুসরণ করেছে।
দলটির সম্মেলনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, ব্যক্তির চাইতে দল বড়, দলের চাইতে দেশ বড়Ñ এটা বিশেষ মুহূর্তে প্রয়োগ করতে আওয়ামী লীগের সম্মেলন ভুল করে নি। এ কারণেই জনগণ যেমন দলটির প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে পেরেছে, তেমনি দলও কখনও জনগণের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস হারায় নি। এই পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসই আওয়ামী লীগের শক্তির প্রধানতম উৎস। জনগণের সাথে এই সংযোগ থাকার কারণেই দেখা যাবে যে, তৃণমূলে জনগণের নেতারাই হচ্ছেন আওয়ামী লীগ সদস্য কর্মী ও নেতা। সম্মেলনগুলোর গৃহীত সিদ্ধান্ত কখনও তৃণমূলের সদস্য কর্মী ও নেতাদের চিন্তা-চেতনার বিপরীতধর্মী না হওয়ায় চরম দুর্দিনেও এরাই আওয়ামী লীগকে ত্যাগ-তিতিক্ষা ও শ্রম-মেধা দিয়ে টিকিয়ে রেখেছে।
সম্মেলনগুলো উল্লিখিত ভূমিকা রেখেছে বলেই প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখনও পর্যন্ত দেশের সর্ববৃহৎ দল হিসেবে আওয়ামী লীগ সক্রিয় ও উজ্জীবিত থাকতে সক্ষম হয়েছে। উল্লিখিত কথাগুলো যে ইতিহাসের কষ্টিপাথরে সত্য এবং প্রতিটি সম্মেলন থেকে যে কিছু শেখার রয়েছে, তা বিবেচনার জন্য বিগত সম্মেলনগুলোর তাৎপর্য ও অর্জনের দিকে সংশ্লিষ্ট সবার ফিরে তাকাতে হবে। অর্জনের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই সংগ্রাম অব্যাহত রেখে নতুন নতুন অর্জন ছিনিয়ে আনতে হবে। নতুন তাৎপর্য অর্জনের জন্যই অতীতের তাৎপর্যকে করতে হবে মহিমান্বিত, নিতে হবে অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা। বর্তমানের চলার পথকে কণ্টকমুক্ত ও আলোকিত করার জন্যই অতীতের দিকে ফিরে তাকানো ভিন্ন বিকল্প নেই।
চার
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা হওয়ার ২২ মাসের মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক অঙ্গন ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন, দিক-নির্দেশহারা। পাকিস্তানি শাসক ও শোষকগোষ্ঠীর ভাষা-সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ, পূর্ব বাংলা-বিরোধী কার্যকলাপ, গণতন্ত্র ও শাসনতন্ত্র সম্পর্কে অনিহা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও দুর্ভিক্ষাবস্থা প্রভৃতি নতুন রাষ্ট্র গড়ার স্বপ্নসাধকে ধূলিস্যাৎ করে চলছিল। কোনো বিরোধী কথা বললেই ‘শির কুচাল দেঙ্গে’ কথাটা উচ্চারিত হতো। কেবল হুমকি নয়, শুরু হয়ে গিয়েছিল দমন-পীড়নও। তখনকার ছাত্রনেতা শেখ মুজিব ভাষা আন্দোলনে ভূমিকা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের পক্ষে সংগ্রাম পরিচালনা করতে গিয়ে জেলে ছিলেন। এই দুঃসহ অবস্থায় গণতন্ত্র ও স্বাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দমন-পীড়ন প্রতিহত করার জন্য মুসলিম লীগ বিরোধী একটি বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তা জনগণ প্রত্যাশা করছিল।
এই অবস্থায় প্রায় ৩০০ প্রতিনিধি নিয়ে সম্মেলনের ভেতর দিয়ে ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠা পায়। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এই দল গঠন অতুল ও প্রধান ভূমিকা পালন করে। ইতিহাস প্রমাণ করেছে ১৯৪৯ সালের ২৩ ও ২৪ জুন প্রতিষ্ঠার তারিখ দুটো ছিল পূর্ব বাংলার জনগণের জন্য মহেন্দ্রক্ষণ। পাকিস্তানি মতাদর্শ দ্বি-জাতিতত্ত্ব ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা এই মানচিত্রের জনগণের আবহমান থেকে চলে আসা গণতান্ত্রিক অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদ ও দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চলমান ধারা থেকে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছিল, এই সম্মেলনের ভেতর দিয়ে শুরু হয় ছিন্ন হয়ে যাওয়া ওই ধারার সাথে সংযোগ প্রতিষ্ঠার আয়োজন। এই আয়োজন যে স্বার্থক ও সফল হয়েছিল, ইতিহাসই তা স্বাক্ষর রেখেছে। সকালই বলে দেয় দিনটা কেমন যাবে প্রবাদের সত্যতা প্রমাণ করে রোজ গার্ডেনের সম্মেলন প্রকৃত অর্থেই বাংলার মাটিতে গোলাপ ফুটিয়ে চলছে।
দ্বিতীয় সম্মেলন ছিল বাহান্নর ভাষা আন্দালনের পটভূমিতে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন সামনে রেখে। তরুণ শেখ মুজিব তখন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। ৩০০ কাউন্সিলর নিয়ে ১৪-১৬ নভেম্বর ১৯৫৩ অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ-বিরোধী যুক্তফ্রন্ট গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং ২১-দফা কর্মসূচির খসড়া চূড়ান্ত হয়। এই দুই সিদ্ধান্ত যে কতটা তৎপর্যম-িত ও যুগান্ত সৃষ্টিকারী ছিল, তা ইতিহাস স্বাক্ষর রেখেছে। তৃতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২১-২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৫৫, পাকিস্তানি শাসক-শোষক গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ও ৯২(ক) ধারা জারি, যুক্তফ্রন্ট ভেঙে যাওয়া, পূর্ব বাংলার আইন সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের বিরোধী দলে অবস্থান নেওয়ার প্রেক্ষাপটে। এই সময়ে আওয়ামী লীগ পর্যুদস্ত অবস্থার মধ্যে ছিল। এই সম্মেলনের অতীব তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হলো, নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দ বাদ দেওয়া। চতুর্থ সম্মেলন ৮৯৬ প্রতিনিধির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় ৭-৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৭, টাঙ্গাইলের কাগমারিতে। তখন কেন্দ্রে ও প্রদেশে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। চরম দলাদলির মধ্যে এই সম্মেলনে সিদ্ধান্ত হয় যে, দলের কোনো নেতা একই সাথে দলের কর্মকর্তা ও মন্ত্রিপদে থাকতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে শেখ মুজিব স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেন। তিনি দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকেই অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। ব্যক্তির চাইতে দল বড়, দলের চাইতে দেশ বড়Ñ এটা প্রমাণ করে শেখ মুজিব মন্ত্রিপদ থেকে পদত্যাগ করেন।
ওই সম্মেলনের চার মাস পরে ১৩-১৪ জুন ১৯৫৭, অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ সম্মেলন। এই সম্মেলনে দলের ভাঙন অনিবার্য হয়। মওলানা ভাসানী গঠন করেন ন্যাপ। এই সম্মেলনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে যুক্ত নির্বাচন প্রথার পক্ষে দৃঢ় থেকে সংবিধান প্রণয়ন ও নির্বাচনের পক্ষে জোর অবস্থান গ্রহণ করেন। ফলে ক্ষমতায় থাকতে পারে না। পাকিস্তানের ক্ষমতায় থেকে তিক্ত অভিজ্ঞতা লাভ এই সম্মেলনকে তাৎপর্যময় করে রেখেছে। ৬-৮ মার্চ ১৯৬৪, অনুষ্ঠিত পঞ্চম সম্মেলন ছিল সামরিক শাসন-বিরোধী আন্দোলন ও প্রত্যাহার, আইয়ুব মোনায়েমের দমন-পীড়নের শাসন, রক্তক্ষয়ী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দল গঠন না করে এনডিএফে থাকার অভিজ্ঞতা, দলীয় নেতা সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যু প্রভৃতি সামনে নিয়ে। ১ হাজার কাউন্সিলর নিয়ে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের তাৎপর্যপূর্ণ দিক হচ্ছে প্রবীণ নেতারা এনডিএফে থেকে কাজ করতে মরিয়া থাকলেও শেখ মুজিবের নেতৃত্বে দলকে পুনরুজ্জীবিত করা।
এই সম্মেলন থেকেই শুরু হয় শেখ মুজিবের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে গড়ে ওঠার পথ-পরিক্রমা। ষষ্ঠ সম্মেলন ১ হাজার ৪৪৩ কাউন্সিলরের উপস্থিতিতে ১৮-২০ মার্চ ১৯৬৬ অনুষ্ঠিত হয় পাক-ভারত যুদ্ধ ও শেখ মুজিবের ৬-দফা ঘোষণার পটভূমিতে। কাউন্সিল ৬-দফা গ্রহণ করবে না এটাই ছিল জোর প্রচার। কিন্তু দলীয় কাউন্সিলরা তা মিথ্যা প্রমাণ করে বাঁচার দাবি ৬-দফার পক্ষে সক্রিয় সমর্থন ঘোষণা করে। এই সম্মেলনের সবচেয়ে বড় তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হলো শেখ মুজিবুর রহমানকে সভাপতি এবং তার সহযোগীদের কেন্দ্রীয় ওয়ার্কিং কমিটিতে নির্বাচন। এই মাইলফলক অতিক্রমের পর আওয়ামী লীগের আর পিছুটান ছিল না।
সপ্তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৯ আগস্ট ১৯৬৭, আগরতলা মামলার মধ্যে পিডিএমপন্থিদের ষড়যন্ত্র-চক্রান্তে কঠিন এক পরিস্থিতির মধ্যে। নেতৃবৃন্দের জেলে থাকা অবস্থায় গ্রেফতার এড়িয়ে ১৮০ কাউন্সিলর উপস্থিত ছিল। বিরোধিতার মধ্যেও এই সম্মেলনে ৬-দফার পক্ষে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল তাৎপর্যম-িত। অষ্টম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ৪ জুন ১৯৭০। গণ-অভ্যুত্থান, আগরতলা মামলা প্রত্যাহার, আইয়ুবের পতন ও নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজয়ী এক পরিবেশের মধ্যে। ১ হাজার ১৩৮ কাউন্সিলরের উপস্থিতিতে সম্মেলন ৬-দফা ও ১১-দফা গ্রহণ করে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে সত্তরের নির্বাচনে যাওয়ার ভিত সৃষ্টি করে তাৎপর্যমণ্ডিত হয়ে আছে। এটাই ছিল পাকিস্তান নামক কৃত্রিম রাষ্ট্রে আওয়ামী লীগের শেষ সম্মেলন।
পাঁচ
মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদানকারী দল আওয়ামী লীগের স্বাধীন দেশে প্রথম সম্মেলন হলো নবম সম্মেলন। যুদ্ধবিধস্ত দেশের পুনর্গঠন, পুনর্বাসন, নতুনভাবে সব গড়ে তোলাসহ অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রত্যয় নিয়ে ৭-৮ এপ্রিল ১৯৭২, এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলন জাতীয় চার মূলনীতির ভিত্তিতে সংবিধান রচনার ভিত সৃষ্টি করে। আওয়ামী লীগের দশম সম্মেলন হচ্ছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জীবনের শেষ সম্মেলন। ১৮-২০ জানুয়ারি ১৯৭৪, অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে নীতি-নির্ধারণী সুদীর্ঘ ভাষণের পর সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করে তিনি গণতান্ত্রিক চর্চা ও সংস্কৃতির নতুন দিগন্ত প্রসারিত করেন। ব্যক্তির চাইতে দল বড়, দলের চাইতে দেশ বড় এটা জীবনে বারবার প্রমাণ করে আমাদের জাতির পিতা এই সম্মেলনকে মাইলফলক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন।
বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার অনুপস্থিতি, হত্যা-ক্যুয়ের রাজনীতি, প্রত্যক্ষ সামরিক কর্তার শাসন, দল ভাঙাভাঙিসহ নানা ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত এবং অস্থিতিশীল ও অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে প্রায় নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় ৩-৪ এপ্রিল ১৯৭৭, অনুষ্ঠিত হয় একাদশ সম্মেলন। পাকিস্তানের মুসলিম লীগের দশা হবে আওয়ামী লীগের মতো অর্থাৎ, দলটি হবে ছত্রখান ও নিশ্চিহ্ন এই প্রচারের মধ্যে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় ঐক্য রক্ষা করা, পদ দখলের চক্রান্ত প্রতিহত করা এবং তৃণমূলে দলকে পুনরুজ্জীবিত করা হচ্ছে এই সম্মেলনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। আহ্বায়ক কমিটি গঠনের ভেতর দিয়ে এই সম্মেলন সমাপ্ত হয়।
দ্বাদশ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ৩-৫ মার্চ ১৯৭৮। পরোক্ষ সামরিক কর্তা জিয়ার দুঃসহ অন্ধকারাচ্ছন্ন শাসনের মধ্যে। এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের শূন্যতার অভাব অনুভূত এবং অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকট হতে থাকলেও তৃণমূলে দল গুছিয়ে উঠতে এই সম্মেলন সাহায্য করে। মাত্র আট মাসের মাথায় অনুষ্ঠিত হয় জিয়ার তথাকথিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর এবং সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলের বিশেষ সম্মেলন। এই সম্মেলন ১১-দফার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। দেশের অস্থিতিশীল ও নাজুক অবস্থায় উল্লিখিত সম্মেলন ৩টি ছিল মার্কটাইম করার অর্থে সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
ছয়
১৩-১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৮১, অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সম্মেলন আওয়ামী লীগ আর সেই সাথে দেশের ইতিহাসের এক বিশেষ মাইলফলক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রবাসে অবস্থানরত জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনাকে এই সম্মেলন সভাপতি নির্বাচিত করে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার তথা ভোট ও ভাতের রাজনীতিতে সূচিত হয় নতুন এক অধ্যায়। এই সম্মেলনের পর সভানেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ১৩ দিনের মাথায় প্রেসিডেন্ট জিয়া নিহত হলে আবারও দেশে এক অস্থিতিশীল ও অনিশ্চিত অবস্থা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ক্যুয়ের ভেতর দিয়ে এরশাদ ক্ষমতায় আসে। আওয়ামী লীগ নানা ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের কবলে পড়ে। আওয়ামী লীগের নাম নিয়ে ব্যাকেট দিয়ে দল গঠনের চক্রান্ত শুরু হয়। এত কিছুর মধ্যেও দলটি ভাঙনের মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়। এরই মধ্যে চলতে থাকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ১৫ দলের আন্দোলন। ফলে চতুর্দশ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে বিলম্ব হয়। তবে আন্দোলন-সংগ্রামের ভেতর দিয়ে বঙ্গবন্ধু-কন্যার সুযোগ্য নেতৃত্বে দল রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে গুছিয়ে উঠতে থাকে।
এই অবস্থায় ১ থেকে ৩ জানুয়ারি ১৯৮৭, অনুষ্ঠিত হয় চতুর্দশ সম্মেলন। এই সম্মেলনের ভেতর দিয়ে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে আরও গুছিয়ে ওঠে। ইতোমধ্যে স্বৈরাচারী এরশাদের পতন ও বিশ্ব পরিস্থিতিতে পরিবর্তন সূচিত হয়। ’৯১-এর সূক্ষ্ম কারচুপির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আওয়ামী লীগের অনমনীয় দৃঢ়তা ও আন্দোলনের প্রেক্ষিতে দেশ আবারও সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারায় ফিরে আসে। এ অবস্থায় ১৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর ১৯৯২, অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চদশ সম্মেলন। বিশ্ব ও জাতীয় পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নতুন অর্থনৈতিক নীতিমালার আলোকে ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র সংশোধন করা ছিল এই সম্মেলনের তাৎপর্যপূর্ণ অবদান। আওয়ামী লীগ আবার প্রমাণ করে লক্ষ্য ও নীতির প্রতি অবিচল থেকে সঠিক সময়ে কৌশলে পরিবর্তিত হওয়া দলটির জন্য স্বাভাবিক বিষয়। সম্মেলনের পর যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের বিচারের দাবিতে গণসংগ্রাম, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে গণ-আন্দোলন প্রভৃতির কারণে ষষ্ঠদশ সম্মেলন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত করা সম্ভব হয় না।
গণসংগ্রামে বিজয়ের প্রেক্ষাপটে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আওয়ামী লীগ সুদীর্ঘ ২১ বছর পর ক্ষমতায় এলে ৬ ও ৭ মে ১৯৯৭, ষষ্ঠদশ সম্মেলনে মিলিত হয়। সুদীর্ঘ বছর পর ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় অনুষ্ঠিত এই সম্মেলন দেশকে মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্যাভিমুখী পথে ঘুরে দাঁড়াতে যথার্থ ভূমিকা রাখে। পরবর্তীতে তিন বছর সময় অতিক্রান্ত হলে নির্বাচন সামনে থাকায় সম্মেলন অনুষ্ঠান করা সম্ভব না হলেও বিশেষ সম্মেলন ২৩ জুন ২০০০ অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলন গণতন্ত্র উন্নয়ন ও মুুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারায় দেশকে অগ্রসর করার ক্ষেত্রে প্রভূত ভূমিকা পালন করে। এই সম্মেলনের পর ২০০১ সালে ভোট ডাকাতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে পরাজিত হতে বাধ্য করা হলে বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগকে কোণঠাসা ও নিশ্চিহ্ন করতে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করা হয়।
এই পরিস্থিতি রুখে দাঁড়ানোর ভেতর দিয়ে ২৬ ডিসেম্বর ২০০২, সপ্তদশ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলন দলকে উজ্জীবিত রাখতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইতোমধ্যে বিএনপি-জামাতের দুঃশাসন চরমে পৌঁছে। এদিকে বিএনপি-জামাত জোট ২০০৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী ও কুক্ষিগত করতে চাইলে শুরু হয় তীব্র আন্দোলন। ফলে যথাসময়ে সম্মেলন করা সম্ভব হয় না। পরবর্তীতে আসে এক-এগারোর জরুরি আইনের সরকার। রাজনীতি থাকে নিষিদ্ধ। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে প্রথমে বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আসতে বাধা দেওয়া হয়। পরে নেত্রীকে কাটাতে হয় বন্দী জীবন। কিন্তু এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আন্দোলন তীব্র হয়ে উঠলে সরকার নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। নির্বাচনে সভানেত্রী শেখ হাসিনা দিনবদলের কর্মসূচি ঘোষণা করে এবং নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে।
জনগণের ভোটে ক্ষমতাসীন হয়ে আওয়ামী লীগ ২৪ জুলাই ২০০৯, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে অষ্টাদশ সম্মেলন অনুষ্ঠান করে। এই সম্মেলন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মাইলফলক বিশেষ। এই সম্মেলনে দেশের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন ঘোষণাপত্র গ্রহণ এবং গঠনতন্ত্র সংশোধন করা হয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে দৃঢ় প্রত্যয় এই সম্মেলনকে তাৎপর্যম-িত করে তোলে। সরকার পরিচালনায় সাফল্য এবং দেশ ও জনগণের অব্যাহত উন্নতি ও অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে ঊনবিংশতম সম্মেলন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ২৮ ডিসেম্বর ২০১২ অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলন জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নতি ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে এবং দেশকে অস্থিতিশীল ও সংবিধান বহির্ভূত পথে ঠেলে দেওয়ার লক্ষ্যে বিএনপি-জামাত জোটের যুদ্ধংদেহী কার্যকলাপ ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইতোমধ্যে তিন বছর সময় অতিক্রান্ত হলেও মূলত ইউনিয়ন কাউন্সিল নির্বাচনের কারণে সম্মেলন পিছানো হয়। এখন আওয়ামী লীগ ২০তম সম্মেলনের দোরগোড়ায়।
সাত
এমন একসময়ে আওয়ামী লীগের ২০তম কাউন্সিল অধিবেশন হতে যাচ্ছে, যখন জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে দলটি সাত বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় থেকে প্রদত্ত অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ভেতর দিয়ে দেশ, জাতি ও জনগণের সেবা করে যাচ্ছে। বিশ্বের বুকে গর্বিত জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো এবং জনগণের জীবন ও জীবিকার মানোন্নয়নে আওয়ামী লীগ সভাপতি দেশরতœ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত সরকার আজ দেশে-বিদেশে সর্বত্র প্রশংসিত। দেশি-বিদেশি পরাজিত শক্তির সৃষ্ট বাধা-বিপত্তি এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পাঁয়তারার মধ্যেও দেশবাসী আজ জাতির পিতা ও লক্ষ লক্ষ শহীদের স্বপ্নসাধ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে দেশকে জন্মলগ্নের লক্ষাভিমুখী পরিচালনা করার কর্মযজ্ঞে নিয়োজিত। সরকারের সৃজনশীল প্রয়াস ও কর্মোদ্যোগের সাথে দেশবাসীর ইচ্ছে-আকাক্সক্ষা প্রত্যাশা ও কর্মউদ্দীপনা একই খাতে প্রবাহিত হওয়ায় নতুন এক বাংলাদেশ ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।
এই বাংলাদেশ শহীদের রক্তস্নাত স্বপ্নের সোনার বাংলা। বর্তমান সময়ের ডিজিটাল বাংলাদেশ। একবিংশ শতকের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ গড়ে তোলার সাথে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ হয়ে ওঠার দাবি নিয়েই দেশের গৌবরম-িত জনগণের রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। অতীতে কখনও আওয়ামী লীগের সম্মেলন যেমন যথাযথ রাজনৈতিক সাংগঠনিক কর্মপন্থা গ্রহণে ভুল করে নি; তেমনি এবারেও সঠিক ও যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেই এগিয়ে যাবে। জনগণের সব শক্তি ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর করতে দলের সব নেতা-কর্মী-সদস্যদের সচেতন সক্রিয় ও উদ্যোগী করা; শ্রম ও মেধা, ত্যাগ ও কার্যকারিতা এবং নবীন ও প্রবীণদের সম্মিলন ঘটিয়ে কেন্দ্রে যথাযথ নেতৃত্ব গড়ে তোলা প্রভৃতি অতীতে, যা আওয়ামী লীগের সম্মেলনগুলো করে গণচেতনা ও গণসংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে গেছে; এবারেও তা করবে বলেই জনগণ দৃঢ়ভাবে মনে করে।
এটা তো ঠিক যে, আওয়ামী লীগ মানুষের চেতনা ও প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ ও অঙ্গীকার করার ফলেই মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে ক্ষমতায় এসে দেশ সেবার সুযোগ পেয়েছে। সময় শেষে দলকেই আবার জনগণের কাছে জনতার রায়ের জন্য যেতে হবে। সরকার নয়, দলকেই দাঁড়াতে হবে জনগণের সামনে। মানুষ সরকারকে নয় ভোট দেবে দলকে, দলীয় প্রার্থীকে। এই দিক বিবেচনায় যতই আগামী নির্বাচন সামনে আসছে, ততই দলের আর সেই সাথে কেন্দ্র থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত দলীয় নেতা-কর্মী-সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য বেড়ে যাচ্ছে। এই দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের উপযোগী সংগঠন হিসেবে এই সম্মেলনের ভেতর দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ চেতনা শাণিত করে নব উদ্যম নিয়ে বের হয়ে আসবে এবং অতীত সম্মেলনগুলোর ঐতিহ্যের ধারাকে অগ্রসর করে নেবে এটাই বর্তমানে জনগণের একান্ত প্রত্যাশা।
মূল প্রবন্ধঃ শেখর দত্ত, উত্তরন নিউজ

শেখ হাসিনা একজন ক্যারিশম্যাটিক মিসরের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত

শেখ হাসিনা একজন ক্যারিশম্যাটিক 

মিসরের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত মাহমুদ ইজ্জত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কারিশম্যাটিক লিডার আখ্যায়িত করে বলেছেন, তাঁর প্রতি বাংলাদেশের জনগণের অকুন্ঠ সমর্থন ও আস্থা রয়েছে।
রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর জাতীয় সংসদ ভবনের কার্যালয়ে বিদায়ী সাক্ষাৎকালে মিসরের রাষ্ট্রদূত একথা বলেন।
বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বৈঠক সম্পর্কে অবহিত করেন।
রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের চমকপ্রদ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রসংশা করে বলেন, এই উন্নতির জন্যই বাংলাদেশ বর্তমানে এশিয়ান টাইগার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের জন্যই বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে এশিয়ান টাইগার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে এবং মিসর বাংলাদেশের এই অর্জন থেকে শিক্ষা লাভ করতে চায়।
বাংলাদেশের ৭ দশমিক ০৫ শতাংশ হারে জিডিপি অর্জনের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে মিসরের রাষ্ট্রদূত একে বিস্ময়কর সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের জনগণকে শান্তিপ্রিয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেও তিনি অভিভূত।
মাহমুদ ইজ্জত বাংলাদেশের মানুষের সহনশীলতার ও ভূয়শী প্রশংসা করেন।
সম্প্রতি মিশরের একটি এয়ার ক্রাফট ভূমধ্য সাগরে বিধ্বস্থ হবার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মিশরের প্রেসিডেন্টকে শোকবার্তা পাঠানোর জন্যও তিনি প্রধানমন্ত্রকে ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রী বিগত প্রায় সাড়ে ৭ বছর সময়ে তার সরকারের সাফল্য এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুল ধরে বলেন, সরকার এই সময়ের মধ্যে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালীকরণের পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই উন্নয়ননীতির সাহায্যে মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন সাধন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে বলেন, বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের জীবন-মানের উন্নয়ন ঘটিয়ে দেশকে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত, প্রযুক্তি নির্ভর,শান্তিপূর্ণ ২১ শতকের আধুনিক দেশ হিসেবে গড়েই তোলাই তাঁর লক্ষ্য ।
তিনি ৫ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে বিএনপি-জামায়াতের দেশব্যাপী সীমাহীন সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, এই অশুভ শক্তির উদ্দেশ্যই হচ্ছে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করা। দেশের সাম্প্রতিক গুপ্তহত্যার প্রসংগ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সরকার অচিরেই দেশের জনগণের সঙ্গে মিলে এই গুপ্তহত্যা বন্ধে সক্ষম হবে।
প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যসেবা খাতে দেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা প্রদানসহ ৩০ ধরনের ওষুধ বিনামূল্যে প্রদানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।
একইসঙ্গে তিনি জনগণের জন্য সরকারের সামাজিক নিরাপত্তাবলয়ের কর্মসূচি এবং খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টিও তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় আরও বলেন, তিনি বিরোধী দলে থাকাকালিনই দেশের আর্থ-সামাজিক এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনা করেছিলেন এবং প্রকল্প কিভাবে বাস্তবায়িত হবে তা ভেবে রেখেছিলেন।
বাংলাদেশ এবং মিশরের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক বলবৎ থাকার প্রসংগ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলেই এই সম্পর্কের ভীত রচিত হয়।
তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর মিশর সফরের কথাও স্মরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালনকালিন সময়ে সরকারের প্রতি সহযোহিতার জন্য তাঁকে (মাহমুদ ইজ্জত) ধন্যবাদ জানান। তিনি ডিপ্লোমেটিক কোরের ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগমও উপস্থিত ছিলেন।

Tuesday, June 7, 2016

নস্টদের দখলে তিলে তিলে গড়ে তোলা কালকিনি উপজেলা আ'লীগ!

নস্টদের দখলে তিলে তিলে গড়ে তোলা কালকিনি উপজেলা আ'লীগ!

যেখানে দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষনা করেছেন নৌকার বিরুদ্ধে যারা ইলেকশন করবে তারা যদি জিতেও যান তাদের কখনো আ'লীগে নেয়া হবে না। সেখানে কালকিনিতে ঘটতেছে সম্পুর্ন ব্যাতিক্রম। এখানে নৌকা ডুবানোরা হয় পুরস্কৃত। এখানে যারা নৌকায় ভোট দিয়েছে তাদের ঘরবাড়ি হয় লুটপাট। মামলা হামলায় তারা হয় পলাতক। ক্ষমতার উচ্চ পদ থেকে নৌকার সমর্থকদের হয়রানি করা হচ্ছে অনবরত। আমার প্রানপ্রিয় আওয়ামী সমর্থকদের নামের মামলা তুলে নেয়া হয়নি। তাদের শতশত জালাও পোড়াও ও লুটপাট করা ঘরবাড়ি ঠিক করে দেয়া হয়নি। আমার ভাইদের বাড়িতে ফিড়িয়ে আনার উদ্যগ নেয়া হয়নি। এখনো প্রতিনিয়ত তাদের উপর চলছে নির্মম নির্যাতন। কাঁদছে আলীনগরবাসি, কান্নার আহাজারি চলছে লক্ষীপুরে, জলছে কয়ারিয়া। সাহেবরামপুর, সিডিখানসহ কি চলছে সারা কালকিনিতে একবার দেখে আসুন ছদ্দবেশে।

এই অবস্থার মধ্যই এমপি মহোদয় আ'লীগের শত্রু, নৌকার শত্রুদের সাথে নিয়ে সভা সমাবেশ ও মহরা দিয়ে চলেছেন। এতে করে কালকিনি উপজেলা আ'লীগের সকল সাধারন আরো লজ্জিত, ভীত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তাদের সকলের জিজ্ঞাসা আ'লীগ করাই আ্মাদের বড় অপরাধ হয়ে গেল? যারা আ'লীগের শত্রু তারা জুলুম করে আমাদের উপরে আর তারাই আবার এমপির সাথে থাকে তাহলে আমরা কোথায় যাব। দলের মধ্য থেকে যারা নৌকার বিরুদ্ধে ইলেকশন করলো তাদের বহিস্কার করা হলো না কিন্তু যারা বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন দিয়েছে তাদের বহিস্কার করা হলো।

ইউনিয়ন ইলেকশনে বিদ্রোহীদের ব্যাপারে চুপ, যারা উপজেলা আ'লীগের দায়িত্বে থেকেও নৌকা ডুবালো তাদের ব্যাপারেও এমপি সাহেব চুপ অথচো পৌরসভার সময় আমরা এমপি সাহেবের কি রুপ দেখেছিলাম। ইউপিতে যদি মনে করেন সবাই আ'লীগ তাহলে পৌরসভাতে কেন মাস্তানী করলেন? কি দোষ করেছিল কালাম ভাই, জীবন দিয়ে আ'লীগ করা লোকমানের কি অপরাধ ছিল, আ'লীগের জন্য জীবনের সবকিছু বিষর্যন দেয়া সবুজ কি পাপ করেছিল? আপনার এত মাস্তানির পরও এরা এক একজন কত ভোট পেয়েছিল একটু হিসেব করে নিয়েন! যদি মাস্তানি না করতেন তাহলে আপনার অবৈধ নৌকা কোথায় ভেষে যেত তার ঠিকানা খুজে পেতেন না।

উপজেলা ও পৌরসভা আ'লীগের সম্মিলিত মনোনয়ন বোর্ড এবং আ'লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সকলের সমর্থনে কালাম ভাইকে মনোনয়ন দিয়ে কেন্দ্রে রেজুলেশন পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু আপনি একা আপনার ক্ষমতা দিয়ে সবার মতামতকেই জলাঞ্জলি দিলেন। আপনার খামখেয়ালিপনার কারনে কালকিনি আ'লীগ ও তার অংগ সংগঠনের সবাই একযোগে পদত্যাগ করেছিল কিন্তু কাউকেই আপনি সামান্য তোয়াক্কা করলেন না। লোভ লালসা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অনেককেই বাগিয়ে নিলেন কিন্তু কতটা পেরেছেন, হিসেব মিলিয়ে দেইখেন। জুলুম, নির্যাতন ও মাস্তানির স্টীম রোলার চাপিয়ে দিলেন কালকিনির উপরে।

সম্পুর্ন অন্যায় ও নিয়মবহির্ভুতভাবে ইলেকশন চলাকালিন সময়েই বিদ্র্রোহীকে সমর্থন প্রদানের জন্য বহিস্কার করা হলো কিন্তু এখনতো অনেকদিন হয়ে গেল ইলেকশন শেষ। কই এখনতো তাদের বহিস্কার করছেন না বরং তাদের নিয়ে ঘুড়ছেন, খাইছেন, আনন্দ করছেন। এমন ডবল রোল আ'লীগের সাথে কেন? আ'লীগকে এত ভয় কেন? কেমন আজব চরিত্রের নেতা হলে এমনটা সম্ভব? বিএনপি জামায়ত দিয়ে যদি আ'লীগ করাতে চান তাহলে শরীর থেকে প্রথমে আ'লীগ নামটি মুছে ফেলুন।

শূন্য থেকে শুরু করে আজ কালকিনিতে সাজানো আ'লীগ। এই সাজানো বাগান ধংশ হতে দিতে পারিনা, দেব না। দলের জন্য অনেক রক্ত দিয়েছে আমার ভায়েরা। বিএনপিকে পাশে নিয়ে সেই ভাইদের রক্ত আবারো ঝরানো হচ্ছে। আমরা এটা মেনে নেব না। কালকিনির জনগন এটা হতে দেবে না। কালকিনির জনগন প্রস্তুত থাকুন। কোনো রক্ত চক্ষুকে ভয় পাবেন না। আমাদের কালকিনি, আমাদের আ'লীগ, আমাদেরকেই রক্ষা করতে হবে। জয় আমাদেরই হবে। 
জয় বাংলা

Monday, June 6, 2016

আমরা শিক্ষিত পরিচ্ছন্ন নেতা এবং একটি স্বচ্ছ পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ চাই

আমরা শিক্ষিত পরিচ্ছন্ন নেতা এবং একটি স্বচ্ছ পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ চাই 


Saturday, May 7, 2016

আমি বেঁচে থাকতে এদেশকে নিয়ে কাউকে খেলতে দেবো নাঃ শেখ হাসিনা

আমি বেঁচে থাকতে এদেশকে নিয়ে কাউকে খেলতে দেবো না
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এদেশে কোন জঙ্গি সন্ত্রাসের স্থান নেই। এদেশের মাটি ব্যবহার করে কাউকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, ‘অনেকে জঙ্গি সন্ত্রাসের ধোয়া তুলে এদেশকে নিয়ে খেলার চেষ্টা করবে। কিন্তু আমি বেঁচে থাকতে এদেশকে নিয়ে কাউকে খেলতে দেবো না।’ প্রধানমন্ত্রী আজ সংসদে ১০ম সংসদের ১০ম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালে এদেশ জঙ্গি সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য ছিল। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রই হচ্ছে বিএনপির রাজনীতির মূলমন্ত্র। খবর বাসস’র।

ঘুষ-দুর্নীতিতে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার দুই পুত্র চ্যাম্পিয়ন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল এবং মানুষকে শোষণ করাই ছিল বিএনপি আমলের চিত্র।
তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া যখন প্রধানমন্ত্রী ছিল তখন তিনি কালো টাকা সাদা করেছেন। রাষ্ট্রীয় ব্যাংক থেকে তাদের পরিবার শত শত কোটি টাকা লুটপাট করেছে। বাংলাদেশ ওই সময় বিশ্বসভায় দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল। এটাই ছিল বাংলাদেশের পরিচয়। আমরা ক্ষমতায় আসার পর সেই পরিচয় থেকে বেরিয়ে এসে আজকের বাংলাদেশ হচ্ছে উন্নয়নের রোল মডেল। বিএনপি নেত্রীর দুই ছেলেই দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন। তাদের মানি লন্ডারিং সিঙ্গাপুরের আদালতে প্রমাণিত। এফবিআই-এর লোক এসে এখানে সাক্ষী দিয়ে গেছেন। বেগম খালেদা জিয়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে টাকা এনে এতিমের টাকা লুটপাট করেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এক তার বার্তায় বিএনপি নেত্রীর বড় ছেলে সিমেন্সসহ বিভিন্ন কোম্পানি থেকে ঘুষ নিয়েছিল তার উল্লেখ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগে একটি মামলা হয়েছে। সেখানে সিমেন্স কোম্পানি থেকে যে ঘুষ নিয়েছে সেটা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কোর্টে প্রমাণ হয়েছে এবং বিভিন্ন কোম্পানি থেকে তার ছেলে কত ডলার ঘুষ নিয়েছে এটাও উল্লেখ রয়েছে। এই টাকা সিঙ্গাপুরের সিটি ব্যাংকে বিএনপি নেত্রীর ছেলের বন্ধুর নামে রাখা হয়েছে এবং সেখানে সে ধরা পড়েছে ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করতে গিয়ে। এমনকি একটি হত্যা মামলা ঘুষ নিয়েছিল তার ছেলে। এটি তাদের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্বীকার করেছে। এসব দুর্নীতির মাধ্যমে যাদের সম্পদ ছিল ছেড়া গেঞ্জি আর ভাঙ্গা সুটকেস তারা শত শত কোটি টাকার মালিক হয়ে যায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা নিজেরা মানি লন্ডারিং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত তারা এতো টাকা ঘুষ খেয়েছে যে আমেরিকার এফবিআই’র অফিসারকে পর্যন্ত টাকা দিয়ে কিনে ফেলেছে। এফবিআই’র অফিসারকে কিনতে গিয়ে বিএনপির এক নেতা আমেরিকাতে আটক হয়েছে। সেখানে তার বিচার হয়েছে। ওই বিচার কার্যক্রমে বিএনপি নেত্রীর উপদেষ্টা শফিক রেহমান ও মাহমুদুর রহমানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তারা সজীব ওয়াজেদ জয়কে হত্যার পরিকল্পনার বিষয়টি ওঠে এসেছে।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেত্রী জয় সম্পর্কে সম্প্রতি একটি মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন। জয় এ বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করেছে। বিএনপি নেত্রীকে আমি সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এবং শেখ রেহানা আমাদের সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করিয়েছি। চোর-চোট্টা বানাইনি। ২১ আগস্ট আমাকে হত্যায় ব্যর্থ হয়ে এখন আমার ছেলেকে হত্যার ষড়যন্ত্র হচ্ছে।’
তিনি বলেন, রাজনীতি জনগণের কল্যাণে এবং জনগণের জন্য। দেশের মানুষের কল্যাণে ১৯৯৬-২০০১ এবং ২০০৮ সালের পর ক্ষমতায় এসে অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। রিজার্ভ ২৯ বিলিয়নে উন্নীত হয়েছে। প্রবৃদ্ধি ৭ ভাগের উপরে অর্জিত হয়েছে। দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬১-এ নেমে এসেছে। জনগণের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৪৪৬ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্য সীমা থেকে উঠে এসে নিম্ন মধ্য আয়ে পৌঁছেছে। ৭ বছরে ৩০ লাখ ৭৫ হাজার ৭০৮ জনের বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে। দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। রফতানি আয় বেড়ে ৩২ দশমিক ২ ডলারে উন্নীত হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ১৬ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে ৩০ ধরনের ওষুধ বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে। ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এতে মা ও শিশু মৃত্যু হার কমেছে। গণমুখী স্বাস্থ্য নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে শিক্ষার হার ৭১ ভাগে উন্নীত হয়েছে। মানুষের দোরগোড়ায় শিক্ষা পৌঁছে দিতে বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হচ্ছে। প্রাথমিক থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত মেধাবৃত্তি ও উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমাতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ১০ টাকায় ব্যাংক একাউন্ট খোলা এবং কৃষকদের মাঝে কৃষি উপকরণ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। 
শেখ হাসিনা বলেন, ১০৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে ১৪ হাজার ৭শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা আমরা অর্জন করেছি। দেশের ৭৬ ভাগ মানুষ এখন বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে।

Thursday, March 10, 2016

গনতন্ত্র ও উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক।





গনতন্ত্র ও উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনটি এ দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও গনতন্ত্রের যাত্রাকে অব্যাহত রাখতে একটি গুরত্বপূর্ণ এবং অন্যান্য মাইলফলক। বাংলাদেশের জনগন দেশের স্বার্থে সবসময়ই অত্যন্ত সক্রিয়।চলমান উন্নয়ন পক্রিয়ার ধারাবাহিকতা রক্ষায় প্রয়োজন জনগনের সক্রিয় অংশগ্রহন,সহযোগিতা এবং যথাযথ সমন্বিত উদ্যেগ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যেগের কারনে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও বাংলাদেশ মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলসমূহ অর্জনে সাফল্য দেখিয়েছে এবং জাতীয় আয় ও বাজেটে বরাদ্দ উল্লেখ্যযোগ্য হারে বৃদ্ধি করতে সমর্থ হয়েছে। বাংলাদেশের উত্তরন ঘটেছে নিম্ন আয় থেকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে। এ ছাড়াও কৃষি,শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্নখাতে ব্যাপক উন্নতি অর্জিত হয়েছে। অয়ান্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ স্বীকৃতি অর্জন করায় সারা বিশ্বের কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সাফল্য আজ প্রমানিত। এই সাফল্য ও স্বীকৃতির সমন্বয়ে বর্তমান সরকার রুপকল্প (ভিশন) ২০২১ অর্জনে বদ্ধপরিকর। 

গত দুই বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডে ও অগ্রগতির একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নে দেয়া হলঃ 
অর্থ, বানিজ্য ও পরিকল্পনাঃ
গত দু'বছরে গড় প্রবৃদ্ধির হারছিল ৬.৩ শতাংশ। এছাড়া মাথাপিছু আয় বেড়ে ১৩১৪ মার্কিন ডলার, রিজার্ভ প্রায় ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং রেমিট্যান্স ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক সিদ্ধান্তের ফলে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অবসরকালীন সুবিধাদি উল্লেখ্যযোগ্য পরিমানে বৃদ্ধি করে ইতিমধ্যে জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের তুলনায় বাজেটের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৫৭ শতাংশ এবং বার্ষিক উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৭৫ শতাংশ। Financial reporting act ২০১৫ অনুমোদন করাও সরকারের বিরাট সফলতা।
বর্তমানে ১৯৬টি দেশে ৭২৯টি পণ্য রপ্তানি করে আয় হচ্ছে ৩১।২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ WTO তে LDC কোঅর্ডিনেটরের ভূমিকা পালন করেছে। বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় এ পর্যন্ত ১১টি উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ স্বল্পোন্নত দেশসমূহকে সেবাখাতে প্রেফারেনশিয়াল সুবিধা দিচ্ছে। টিসিবির মাধ্যমে গত দুবছরে ৩৮ হাজার ৮শ ৮৩ মেট্রিক টন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ন্যায্যমূল্যে বিক্রয় করা হয়। খাদ্যদ্রব্যের গুনাগুন বজায় রাখার লক্ষ্যে ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৫ প্রণয়ন করা হয়েছে।
গত দুবছরে ৬২টি একনেক বৈঠকে ৪২৯৮০৪.৪৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪১৭টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি দারিদ্র্য নিরসনের সাথে প্রত্যেক নাগরিকের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুমোদন (২০১৬-২০২০) করা হয়েছে।

শিক্ষাঃ
দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে উপবৃত্তি ও বেতন মোকুফ সহায়তা হিসেবে ৪৯লক্ষ ২৩ হাজার ৪৮৫ শিক্ষার্থীকে ৮৮০.২৭ কোটি টাকা বিতরন করা হয়। জাতিসংঘের বেধে দেয়া সময়সীমার তিন বছর আগেই ২০১২ সালে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যাগত সমতা অর্জন করে। এটি সম্ভব হয়েছে মহাজোট সরকারের কঠোর পরিশ্রম ও আন্তরিকতার ফলে। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল স্থাপনের অংশ হিসেবে ১০০টি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল স্থাপনের কার্যক্রম চলছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৩.১১ শতাংশ শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। ঢাকায় একটি অটিস্টিক একাডেমী স্থাপনের জন্য পৃথকভাবে দুটি হোস্টেল নির্মান করা হবে যেখানে প্রতিটিতে ১০০ জন অটিস্টিক শিশুর আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে। অটিজম বিষয়ক বাংলাদেশের জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারপার্সন্ম সায়মা ওয়াজেদ এর আন্তরিক ও কঠোর পরিশ্রমে দেশের ওটিস্টিক ছেলে-মেয়েদের কল্যানে কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
২০১৪ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নীট ভর্তির হার ৯৭.৩০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ঝরে পড়ার হার হ্রাস পেয়ে ২০.০৯ শতাংশে দাড়িয়েছে। ২০১৫ শিক্ষাবর্ষে প্রায় ২.২৩ কোটি শিক্ষার্থীর মধ্যে ১১ কোটি ৫৯ লক্ষ ৯৭ হাজার ৯৭টি পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে বিতরন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মাঠ পর্যায়ের দপ্তরসমূহে ইন্টারনেট সংযোগসহ ৫৫টি পিটিআইতে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। ৫ হাজার ৪৩০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ, মাল্টিমিড়িয়া,ইন্টারনেট মডেম ও সাউন্ড সিস্টেম সরবারহ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশনঃ
বিভিন্ন সূচকে স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি প্রতিফলিত হচ্ছে। মানুষের গড় আয়ু ৭০।৭ বছরে উন্নীত হয়েছে। অনুর্দ্ধ ৫ বছর বয়সী শিশু মৃত্যুর হার কমে প্রতি হাজারে ৪১ জনে দাড়িয়েছে। মাতৃমৃত্যু হারও কমে প্রতি লক্ষে ১৭০ জনে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ২০১৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে পোলিওমুক্ত দেশ হিসেবে সনদ লাভ করে। ৫টি আর্মি মেডিকেল কলেজসহ ১২টি সরকারি মেডিকেলে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রায় ৪০টি হাসপাতালের শয্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ঢাকায় জাতীয় বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারী ইনস্টিটিউট নির্মানের লক্ষ্যে প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। প্রায় ৬৩০০ চিকিৎসককে নিয়োগ দিয়ে উপজেলা পর্যায়ে পদায়ন করা হয়েছে। মবাইল ফোনে ১৬২৬৩ নম্বরে ২৪ ঘন্টা স্বাস্থ্যসেবা চালু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রস্তাবিত অটিজম ও স্নায়ু বিকাশজনিত প্রস্তাবনা পাস হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর গত দুই বছরে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ৩১৮টি উৎপাদন নল্কূপ,৩৪টি পানি শোধানাগার, ১৯টি উচ্চ জলাধার,৭৪৩ কিলোমিটার বিভিন্ন ব্যাসের পাইপ লাইন, ৮৪০৩টি স্যানিটারি ল্যাট্রিন, ১৯০টি কমিউনিটি ল্যাট্রিন-পাবলিক টয়লেট স্থাপন করেছে।
কৃষি, খাদ্য ও শিল্পঃ
২০১৪-১৫ সালে খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছে ৩৮৪।১৮ লক্ষ মেট্রিক টন। উৎপাদনের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রায় ৭ হাজার ১০১ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। খামার যান্ত্রিকীকরনে ৩০শতাংশ ভর্তূকিতে যন্ত্রাংশ সরবারহের জন্য ১৭২।১৯ কটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন্সহ হাওড় অঞ্চলে কৃষিযন্ত্র সরবারহের জন্য ১০।৬০ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। গত দুই বছরে খরা,বন্যা, লবনাক্ততা সহনশীলসহ রোগ প্রতিরোধক্ষম এবং উচ্চ ফলনশীল ৬৪টি জাত অবমুক্ত করা হয়েছে। কৃষকদের জৈবসার ও প্রাকৃতিক বালাইনাশক ব্যবহারে উৎসাহিত করার ফলে নিরাপদ ফসল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।
২০১৫ সালে দানাশস্যের উৎপাদন ৩৫।৬৮ লক্ষ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য মজুদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০১৫ সালে অভ্যন্তরীন উৎস হতে ১২ লক্ষ টন চাল এবং ২ লক্ষ ৪হাজার মেট্রিক টন গম সংগ্রহ করা হয়েছে। ২০১৫ সালে মত খাদ্যশস্য মজুদ ছিল ১৫লক্ষ ৪৬ হাজার ৯৩৯মেট্রিক টন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান মহাজোট সরকারের সময়ই শ্রীলংকায় ২৫হাজার মেট্রিক টন চাল রপ্তানি হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ এই প্রথম অন্য দেশে চাল রপ্তানি করেছে। সরকারি খাদ্য বিতরন কর্মসুচির আওতায় ১১লক্ষ ২৭হাজার মেট্রিক টন চাল এবং ৪লক্ষ ৪৭হাজার মেট্রিক টন গম বিতরন করা হয়েছে। সরকারি খাদ্য গুদামের ধারনক্ষমতা ১৯লক্ষ ৫০ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। সান্তাহার সাইল ক্যাম্পাসে ২৫০০০মেট্রিক টন ধারনক্ষমতাসম্পন্ন বহুতল গুদাম নির্মান সম্পন্ন হয়েছে।
বর্তমানে মৎস্য উৎপাদনে গড়প্রবৃদ্ধির হার ৬.২৩ শতাংশ। প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ লোক মৎস্যখাত থেকে জীবিকা নির্বাহ করে। রুপকল্প ২০২১ অর্জনে লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৩৫.৪৮ লক্ষ মেট্রিক টন মৎস্য ও চিংড়ি উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। দুই বছরে প্রায় ১৬৫ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত মাছ উৎপাদিত হয়েছে এবং ১.৬১ লক্ষ মেট্রিক টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে ৯.৫ হাজার কোটি টাকার বৈদশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে। মিঠা পানির মৎস্য উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ blue growth economyতে বাংলাদেশকে pilot country হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দুধের উৎপাদন ৬৯.৭০ লক্ষ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। একই সময়ে মাংস ও ডিমের উৎপাদন যথাক্রমে ৫৮.৬ লক্ষ মেট্রিক টন ১ হাজার ৯৯ কোটি ৫২ লক্ষে উন্নীত হয়েছে।
ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরনকল্পে বার্ষিক ৫ লক্ষ ৮০ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন শাহজালাল সারকারখানা নির্মান প্রকল্প গৃহীত হয়েছে। বিসিক ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশব্যাপী ক্ষুদ্র শিল্পে ৩৮৯০ ও কুটিরশিল্প খাতে ৮৯৩৪ জন সম্ভাবনাময় শিল্পোদ্যোক্তা চিহ্নিত করে তাদেরকে শিল্পস্থাপনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রকার পরামর্শ – সেবা- সহায়তা প্রদান করে আসছে । বিএসটিআই এর ফুড, মাইক্রবায়োলজী, সিমেন্ট ও টেক্সটাইল ল্যাবরেটরি ভারতের National Accreditiation Board for Testing Laboratories (NABL) থেকে এক্রিডিটেশন লাভ করেছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানীঃ
বিদ্যুৎ খাতে বর্তমান মহাজোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈর্ষনীয় সাফল্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। গত দুই বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা (গ্রীড কানেকটেড) ১০২৮৯ মেগাওয়াট থেকে ১১৯৫২ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। ২০১৩ সালে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৬৬৭৫ মেগাওয়াট। ২০১৫ সালে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন দাঁড়ায় ৮১৭৭ মেগাওয়াট। ২০১৩ সালের মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩২১ কিলোওয়াট আওয়ার হতে বর্তমানেও ৩৭১ কিলোওয়াট আওয়ারে উন্নীত হয়েছে। দৈনিক গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে ২৭০০+ মিলিয়ন ঘনফুট হয়েছে এবং সাথে সাথে বিকল্প উৎস হিসেবে আমদানিকৃত তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) চিহ্নিত করা হয়েছে। Floating Storage Re-gasification Unit (FSRU) স্থাপনের জন্য Excelerate Energy (EE) Singapore এর কারিগরি সহায়তায় দৈনিক ৫০০ এমেমসিএফডি (MMCFD) ক্ষমতাসম্পন্ন LNG TERMINAL স্থাপনের কাজ শেষ হলে ২০১৭ এ জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব হবে।
সড়ক-সেতু, রেল, নৌ ও স্থানীয় যোগাযোগ অবকাঠামোঃ
পদ্মা সেতুর মূল সেতু নির্মান এবং নদী শাসনের কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে দুটি সার্ভিস এরিয়া, কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড নির্মান সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের কাজ প্রায় ২৮ ভাগ শেষ হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে উত্তরা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল নির্মানের প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চট্রগ্রামের কর্নফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ টানেল নির্মানে চীন সরকারের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। ঢাকা- চটড়্গ্রামমহাসড়কের ১৯২ কিলমিটার এর মধ্যে ১৮৪ কিলোমিটার চারলেনেউন্নীতিকরন কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। পার্বত্য চট্রগ্রামে ২২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ৬টি মহাসড়ক উন্নয়ন করা হয়েছে। ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ থানচি- আলিকদম মহাসড়কটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। সিলেটে সুরমা নদীর উপর কাজীর বাজার সেতু, মাদারীপুরেসপ্তমবাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু, শেখ রাসেল সেতু, সুনামগঞ্জে সুরমা সেতু, বিরুলিয়া ও আশুলিয়া সড়কে বিরুলিয়া সেতু, আড়িয়াল খা সেতু, পুরাতন ব্রক্ষ্মপুত্রসেতু,কলাতলীসেতুসহবেশকিছু সেতুর নির্মান কাজ শেষ হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর যানযট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সূদরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রনালয় ও বিভাগ। এই ধারাবাহিকতায় প্রায় ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেডএক্সপ্রেসোয়ের কাজ শুরু হয়েছে। শাহজালাজ বিমানবন্দর থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত বাস র্যা পিড ট্রানজিট (BRT) নির্মানের প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ হয়েছে। শেষ হতে চলেছে জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ ৮০ কিলোমিটার চারলেনের কাজ। ইতিমধ্যে ২ লক্ষ ২১ হাজার ২৩৮ সেট ডিজিটাল নম্বরপ্লেট বিভিন্ন গাড়িতে সংযোজন করা হয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২লাখ ৪২৫টি ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স বিতরন করা হয়েছে। সড়ক। সেতু মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষন ২০১৪-১৫ অর্থবছরে অনুন্নয়ন খাতের আওতায় সার্ফেসিং ব্যতিত ১২৫ কিলোমিটার সড়ক পুনর্বাসন,২৭১ কিলোমিটার কার্পেটিংসহ সীলকোট, ১হাজার ৪৭৪ কিলোমিটার ওভারলে, ২৫৩ কিলোমিটার ডিবিএসটি,২১টি সেতু নির্মান/পুনঃনির্মান,১০৭টি কালভার্ট নির্মান/পুনঃনির্মান কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৫ সালে কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা এবং ঢাকা-সিলেট-শিলং-গৌহাটি-ঢাকা রুটে বাস সার্ভিস চালু হয়। মতিঝিল-আব্দুল্লাহপুর রুটে এসি বাসে ই-টিকেটিং সিস্টেম চালু হয়েছে। বিআরটিসির আওতায় ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে গাবতলী ও মোহাম্মদপুরে ০২টি নতুন বাস ডিপো চালু হয়েছে।
রেলপথের উন্নয়নে ১১টি স্টেশনের সিগন্যালিং ব্যবস্থা আধুনিকায়নসহ লাকসাম-চিনকি আস্তানা ৬১ কিলোমিটার ডাবল লাইন নির্মান প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। সিগন্যালিংসহ টঙ্গী-ভৈরববাজার পর্যন্ত ৬৪ কিলোমিটার ডাবল লাইন নির্মান প্রকল্পের ভৌত কাজ ইতিমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে। এছাড়া ১০০টি মিটার গেজ ও ১৭০টি ব্রড গেজ যাত্রীবাহী গাড়ী সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।
পায়রা বন্দরের মূল অবকাঠামো গরে তোলার জন্য ৬হাজার একর জায়গা ক্রয় করা হয়েছে। সীমিত আকারে পায়রা বন্দরের কাজ শুরু করার জন্য ১১২৮ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পায়রা গভীর সমুদ্র বদরের কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে ২০১৫ সালে ‘প্রয়োজনীয় অবকাঠামো/সুবিধাদি উন্নয়ন’ নামে একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বহুল প্রতীক্ষিত চট্রগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনালের ৪টি জেটিতে কন্টেইনার ওঠানো-নামানোর কাজ শুরু হয়েছে। বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ ও শরীয়তপুরের মধ্যে এবং চাঁদপুরের মতলব ও নারায়নগঞ্জের মধ্যে দুটি নতুন রুটে ফেরি চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশলঅধিদপ্তরের (LGED)বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ৯ হাজার ১৩৫ কিলোমিটার ( উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম) সড়ক, ৪৩ হাজার ২৫০ মিটার ব্রীজ/কালভার্ট নির্মান করা হয়েছে। রাজধানীর যানজট সমস্যা নিরসনে LGED বর্তমানে ৭৭৩ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে মগবাজার-মৌচাক সমন্বিত ফ্লাইওভার প্রকল্পের অধীন ৮.২৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের চারলেন বিশিষ্ট একটি ফ্লাইওভার নির্মানের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।
বিজ্ঞান, তথ্য প্রযুক্তি এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগঃ
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নে গত দু বছরে ৬৬৮.১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ কর্মসূচির আওতায় ২৪৩৯ জন ছাত্রছাত্রী/গবেষককে অর্থসহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের বলিষ্ঠ পদক্ষেপে ২৪০০ মেগাওয়াটবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষনতাসম্পন্ন রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়ন লক্ষ্যে রাশিয়ান ফেডারেশন নির্ধারিত ঠিকাদারের সাথে ৩টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ জেলা/উপজেলা পর্যায়ে ১৮,১৩০ টি সরকারি অফিসে কানেক্টিভিটি স্থাপন করেছে। বাংলাদেশ,ভারত,নেপাল ও ভূটান আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক স্থাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে এবং বাংলাবান্ধা পর্যন্ত অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাউথ-সাউথ কো-অপারেশন ভিশনারি এওয়ার্ড ২০১৪, WITSA থেকে GLOBAL ICT Excellence Award-2014, এবং ইন্ট্যারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (ITU) থেকে ওয়ার্ল্ড সামিট অন ইনফরমেশন সোসাইটি প্রাইজ-২০১৪ এবং ICT’s Sustainable Development Award 2015 অর্জন করেছে।মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা জুন ২০১৫ পর্যন্ত প্রায় ১৩.০২ কোটি এবং ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৫.৪৭০ কোটিতে পৌছেছে। টেলিডেনসিটি প্রায় ৮৩.০৯ শতাংশ এবং ইন্টারনেট ডেনসিটি প্রায় ৩৪.৪০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ডিসেম্বর ২০১৫ থেকে সারাদেশে বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতিতে জাতীয় পরিচয়পত্র ভেরিফিকেশনসহ সিম/রিম রেজিস্ট্রেশন র্যক্রম চালু করা হয়েছে। সরকারের অন্যতম বৃহৎ রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ টেলিকম রেগুলেটরি কমিশন জুলাই থেকে ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত ১৩৭৯.৩৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়েছে। ডাক অধিদপ্তর মোবাইল মানি অর্ডার সার্ভিস ও ক্যাশকার্ড চালু করেছে। এ পর্যন্ত ৩৫০০ ডাকঘরে পোস্ট ই-সেন্টার চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড ঢাকা শহরের ১ লক্ষ পুরাতন ডিজিটাল টেলিফোন সিস্টেম প্রতিস্থাপনসহ ১লক্ষ ৩৯ হাজার নতুন টেলিফোন সংযোগ নতুন টেলিফোন প্রদান করেছে। ৬৪ টি জেলায় ৯৮টি উপজেলার ১০০৬টি ইউনিয়নে ইতোমধ্যে প্রায় ৪৫০০ কিলমিটার অপ্টিক্যাল ফাইবার স্থাপন করা হয়েছে এবং ৩০০টি ইউনিয়ঙ্কে অপ্টিক্যাল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এর দূরদর্শী ও সুচিন্তিত কর্ম পরিকল্পনার আলোকে টেলিটক ৩-জি প্রকল্পের আওতায় দেশের ৭টি বিভাগীয় এবং ৬৪টি জেলা শহরে ৩-জি প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ SEA-ME-WE-5 নামক সাবমেরিন ক্যাবল কনসোর্টিয়াম এর সাথে Construction & Maintenance Agreement স্বাক্ষর করেছে। সরকার বর্তমানে ব্যান্ডউইথের সর্বনিম্ন মূল্যনির্ধারন করেছে প্রতি এমবিপিএস ৬২৫ টাকা।
সমাজকল্যান ও সামাজিক নিরাপত্তা, ভূমিহীনে ভূমিদান এবং মহিলা ও শিশু উন্নয়নঃ
পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রমের আওতায় সুফলভোগীর সংখ্যা ২৪,১৫,০০০ জন। দরিদ্র নারীদের ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য পল্লীমাতৃকেন্দ্র কার্যক্রমের আওতায় বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলায় ৩১৮টি কর্মসূচির আওতায় সুফলভোগীর সংখ্যা ৮৩৪৯৬০। এসিডদ্বগ্ধ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় সুফলভোগীর সংখ্যা ১,৫০,০৫০। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ আটটি উদ্যেগের একটি হচ্ছে আশ্রয়ণ প্রকল্প। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১ম পর্যায়ে ঋণ কর্মসূচির আওতায় সুফলভোগীর সংখ্যা ৬১,৮৭৪। নারী ও শিশু উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগের ফলে দুস্থ মহিলারা ভাতা পেয়ে আসছেন। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তাদুঃস্থ মহিলা ভাতাভোগীর সংখ্যা ১০.১২ লক্ষ। বয়ষ্কভাতাভোগীর সংখ্যা ২৭.২২৫ লক্ষ। অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা ৪ লক্ষ। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি ভাতাভোগীর সংখ্যা ৫০০০০।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরো যুগোপযোগী ও কার্যকর করার লক্ষ্যে জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল অনুমোদন করা হয়েছে। এই কৌশল পাঁচ বছর মেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারন করা হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তামূলক ভাতা কর্মসূচির স্বচ্ছলতা নিশ্চিতকল্পে ভাতাভোগীর নিজ নামে ব্যাংক হিসাব খুলে ভাতার অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে। উপবৃত্তি প্রকল্পের আওতায় জুন ২০১৫ পর্যন্ত প্রতি মাসে সর্বোচ্চ প্রায় ৭৮ লক্ষ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। রিচিং আউট অব স্কুল চিল্ড্রেন (ROSC) প্রকল্পের অধীনে দরিদ্র পরিবারের ৩.৯০ লক্ষ শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগসহ ভাতা পাচ্ছে। দারিদ্র্যপীড়িত এলাকার ৩৩ লক্ষ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রতি স্কুল দিবসে উচ্চশক্তি ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন বিস্কুট বিতরন করা হচ্ছে। ৪৯,৫৫৯টি ভূমিহীন পরিবারের মধ্যে প্রায় ২৮,৪৫৭ একর খাসজমির বন্দোবস্ত প্রদান করা হয়েছে। গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের আওতায় ২৫৪টি গুচ্ছগ্রামে ১০,৭০৩টি ভূমিহীন ও গৃহায়ন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।
সেপ্টেম্বর ২০১৪ এ ডিওক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড (DNA) আইন পাস হয়। ঢাকাসহ দেশের ৮টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের প্রয়োজনীয় সকল সেবা এক স্থান থেকে প্রদানের উদ্দেশ্যে ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (OCC) স্থাপন করা হয়েছে। দুঃস্থ ও অসহায় এবং শারীরিকভাবে অক্ষম মহিলাদের খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি তাদের আত্মনির্ভরশীল করার লক্ষ্যে নির্বাচিত এনজিও'র মাধ্যমে প্রশিক্ষন প্রদান করা হয়। এই কর্মসূচির উপকার ভোগীর ১০০ শতাংশই মহিলা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী ৭,৫০,০০০ জন নারীকে VGD সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়ঃ
দেশের জনগনকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার মাধ্যমে দারিদ্র্য নিরসনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আটটি উদ্ভাবনী উদ্যোগের অন্যতম ‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প’। এছাড়া দারিদ্র্য বিমোচন ও পল্লি উন্নয়নের অংশ হিসেবে ‘চরজীবিকায়ন কর্মসূচি-২’ ‘সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচি’, ‘পল্লি জনপদ (উন্নত আবাসন) সৃজন’, ‘ইকোনমিক এমপাওয়ারমেন্ট অফ দি পুওরেস্ট (EEP)’, ‘মিল্কভিটার কার্যক্রম সম্প্রসারন’, বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্যবিমোচন ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমী’ প্রতিষ্ঠাকরন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে দেশব্যাপী গড়ে ওঠা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কৃষিভিত্তিক খামারের সংখ্যা ১৮.৭২ লক্ষ। ডিজিটাল বাংলাদেশের অবদানে সুবিধাভোগীরা অনলাইনের মাধ্যমে ২৫৭৩ কোটি টাকা লেনদেন করেছে। ইতোমধ্যে ৬৪ জেলার ৪৮৫টি উপজেলায় এ অনলাইন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে বিআরডিবির আওতায় এ পর্যন্ত ১,৯৯,৬৮৮টি সমিতি ও দল গঠন করা হয়েছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সেচ কার্যক্রমের আওতায় সদস্যদের মাঝে ১৮,৪৬০টি গভীর নলকূপ, ৪৪,৫২৩টি অগভীর নলকূপ, ১৯,৪০৫টি শক্তিচালিত পাম্প এবং ২,৭৩,০০০টি হস্তচালিত পাম্প বিতরন করা হয়েছে। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (BARD) ৮৮টি প্রশিক্ষন, অবহিতকরন এবং কর্মশালা সংগঠনের মাধ্যমে ৩,৬৫১ জন অংশগ্রহনকারীকে প্রশিক্ষন প্রদান করেছে। চর জীবিকায়ন কর্মসূচির আওতায় কুড়িগ্রাম,জামালপুর, গাইবান্ধা,বগুড়া এবং সিরাজগঞ্জ জেলার ২৮টি উপজেলার ২.৫০লক্ষ মানুষ প্রত্যক্ষ এবং প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ পরোক্ষভাবে উপকৃত হচ্ছে। 
প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, জনপ্রশাসন ও কর্মসংস্থানঃ
‘ডাক ও টেলিটেলি যোগাযোগ মন্ত্রনালয়’ এবং ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়’ কে একীভূত করে ‘ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রনালয়’ পুনর্গঠন করা হয়েছে। ‘যোগাযোগ মন্ত্রনালয়’ এর নাম পরিবর্তন করে ‘সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয়’ এবং এর আওতাধীন সড়ক বিভাগের নাম পরিবর্তন করে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ করা হয়েছে। ২০১৪ সালে ৯ জন বরেন্য ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে এবং ২০১৫ সালে ৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে স্বাধীনতা পুরষ্কার প্রদান করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সকল মন্ত্রনালয়/বিভাগ এবং দপ্তর/সংস্থা সমূহে সিটিজেন চার্টার প্রণয়ন নিশ্চিত করা হয়েছে। জনপ্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতানিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে Grievance Redress System (GRS) চালু করা হয়েছে। জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল ২০১২ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৫৯টি মন্ত্রনালয়/বিভাগ ওচিহ্নিত সংস্থায় নৈতিকতা কমিটি গঠন এবং কৌশল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা ও পরিবীক্ষণ কাঠামো করা হয়েছে।
বর্তমান মহাজোট সরকারের সময়ে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিদের জন্য সরকারি কর্মচারী আইন এবং পদায়ন/বদলি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া কর্মকৃতিভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে এবং সকল ক্যাডার কর্মকর্তার ডাটাবেইজপ্রস্তুত, পদোন্নতি নীতিমালা সংশোধন ও যুগোপযোগীকরন করা হয়েছে। সরকারি যানবাহন (ব্যবহার নিয়ন্ত্রন) আইন ২০১৪, বাংলাদেশ সিভিল (বয়স, যোগ্যতা ও সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা ২০১৪ এবং জনপ্রশাসন পদক প্রদান নীতিমালা ২০১৪ প্রদান করা হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রনালয়,বিভাগ ও দপ্তরের ১,১০,৫৮৫ টি পদ সৃজন, ৫৭,৫৩২টি পদ সংরক্ষণ, ১১,৩৬৫টি পদ স্থায়ীকরন করা হয়েছে। বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে ৮,৩১২ জনকে নিয়োগ প্রদান, ২,১৫৮ জন নিয়োগের সুপারিশ এবং ৩৯৮৩জনের নিয়োগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে। এ সময় ৬১৯ জন মৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিবার এবং স্থায়ীভাবে অক্ষম ২ জন কর্মচারীকে মোট ৩০কোটি ৯৫ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। NationalInitiative,Accordএবং ALLIANCE এর মাধ্যমে সকল গার্মেন্টস কারখানার Structural Integrity, Electrical & Fire Safety এর আওতায় নভেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত মোট ৩৬৬০টি কারখানা Assessmentকরাহয়েছে।
বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণঃ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের বলিষ্ঠ উদ্যোগে অবৈধ ও অনিয়মিত অভিবাসন রোধ করা সম্ভব হয়েছে। অবৈধ ও অনিয়মিত অভিবাসন রোধকল্পে বিদ্যমান টাস্কফোর্স কে আরও বেগবান করার ফলে বিগত বছরে প্রায় ২ হাজার বাংলাদেশির অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।সিঙ্গাপুরের বিল্ডিং কনস্ট্রাকশানসেক্টরে নিরাপদ ও দক্ষ কর্মী প্রেরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো Sending Organization হিসেবে ১৪টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।জাপানেTechnical Intern প্রেরণের বিষয়ে International Manpower Development Organization, Japan এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মধ্যে MoUস্বাক্ষরিত হয়েছে। এ ছাড়াও বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর সাথে এ সম্পর্কিত আর ৪টি টেকনিক্যাল এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরিত হয়েছে।“বিভিন্ন জেলায় ৩০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন (২য় সংশোধিত)” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২৪টি জেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে।প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক দেশের ৬৪ জেলায় প্রায় ৯ হাজার ৫শ ১৩ জন বিদেশগামী কর্মীকে ‘অভিবাসন ঋণ’ প্রদান করেছে। তা ছাড়া বিদেশ ফেরত প্রায় ১৫০ জন কর্মীকে পুনর্বাসন ঋণ প্রদান করা হয়েছে।
আইনঃ
আদালতে এখন ভয়েসরেকর্ডারের মাধ্যমে সাক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে উচ্চ ও নিম্ন আদালতের দৈনন্দিন কার্য তালিকা ও মামলার সর্বশেষ তথ্য, পরবর্তী ধার্য তারিখসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে অনলাইনে। ২০১৪-১৫ সময়কালে ৪৮টি আইন,১৫২টি চুক্তি এবং ৬৫১টি সংবিধিবদ্ধপ্রজ্ঞাপণ প্রণয়নের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আইন ও বিধিমালার নির্ভরযোগ্য অনুবাদ সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একনিষ্ঠ ও সাহসী পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ৭টি মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়েছে এবং ১০টি মামলা আপিল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে।
পররাষ্ট্রঃ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী ফরেন পলিসি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বর্তমান বিশ্বের শীর্ষ চিন্তাবিদদের একজন হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং জলাবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাব মোকাবিলা ও বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে সক্রিয় ও দৃশ্যমান ভূমিকা রাখায় তাঁকে ‘ডিসিশানমেকার্স’ ক্যাটাগরিতে শীর্ষ ১৩ জন চিন্তাবিদদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাজনীতিতে লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ এবং নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ মর্যাদাপূর্ণWomen in Parliament(WIP) Global Forum Award 2015 পুরষ্কারেভূষিত হয়। ২০১৪ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউনেস্কোর ‘শান্তি বৃক্ষ’ (Tree of Peace)পুরস্কার লাভ করেন। জাতিসংঘেরMillennium Development Goals (MDGs) অর্জনে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ২০১৪ সালে Commonwealth Parliamentary Association (CPA) এর নির্বাহী কমিটির চেয়ারপার্সন, Inter-Parliamentary Union (IPU) এর প্রেসিডেন্ট, Comittee on the Elimination of Discrimination Against Woman (CEDAW) এর সদস্য, International Mobile Satellite Organizatio(IMSO) এর মহাপরিচালক পদে বাংলাদেশের প্রার্থীরা নির্ভাবিত হন। একই বছর বাংলাদেশ জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল, UNICEF Executive Board, International Labour Organization (ILO) এর গভর্নিং বডি এবং ITU Council এর সদস্য নির্বাচিত হয়। ২০১৫ এ UNESCO বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটকে UNESCO Category II স্ট্যাতাস প্রদান করে এবং জাতিসংঘ সাধার পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে। ২০১৪ সালে ঢাকায় BIMSTEC এর স্থায়ী সচিবালয় স্থাপিত হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকালে দুদেশের মধ্যে ২২টি উল্লেখযোগ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
পরিবেশ ও বনঃ
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের স্বীকৃতিস্বরুপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালে জাতিসংঘ ঘোষিত Champions of The Earth পুরষ্কারে ভূষিত হন। সুন্দরবন এনভায়রনমেন্টাল এন্ড লাইভলিহুড সিকিউরিটি (SELS) প্রজেক্টের মাধ্যমে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর বিকল্প আয়বর্ধক কর্মসংস্থান সৃষ্টিকরার ফলে প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ উপকৃত হয়েছে। পরিবেশ দূষণকারী ৪০২টি প্রতিষ্ঠান থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৮ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বণ্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও ইকোপার্ক প্রতিষ্ঠা সহ দেশের উপকূলীয় জেলাসমূহে প্রায় ২ লক্ষ হেক্টর এলাকায় বনায়নের মাধ্যমে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। ৫ লক্ষ পরিবারকে সামাজিক বনায়নের আওতায় আনা হয়েছে। ৭২ শতাংশ শিল্প কারখানায় ইটিপি স্থাপন সহ ৮ হাজার বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন এবং ১৫ লক্ষ উন্নত চুলা বিতরণ করা হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ই প্রথম জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় নিজস্ব অর্থায়নে একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছে।
তথ্যঃ
অধিকতর সেবা এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে কার্যক্রম সম্পাদনের উদ্দেশ্য নিয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, গণযোগাযোগ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের জন্য ১৬ তলা বিশিষ্ট তথ্য ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমান জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় সরকারী ভবনসমূহ নির্মাণ কার্যক্রম তরান্বিত হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য বিটিভি সদর দপ্তর ভবন নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তথ্য কমিশন দুবছরে ৮৮৭৮ জন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহ সাংবাদিক, সাব এডিটর, সাব ইন্সপেক্টর ও শিক্ষককে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে এবং ৫৮৭টি অভিযোগের মধ্যে ৫৫৭টি নিষ্পত্তি ক্রএছে। অবশিষ্ট ৩০টি অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য প্রক্রিয়াধীন্ন রয়েছে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্তঃ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (RAJUK) আবাসন সমস্যার সমাধানে উত্তরা আদর্শ আবাসিক শহর (৩য় পর্ব), পূর্বাচল নতুন শহর ও ঝিলমিল আবাসিক শহরে মধ্যবিত্তের জন্য প্রায় ৯০ হাজার এপার্টমেন্ট নির্মাণ করছে। এ ছাড়া জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ও গণপূর্ত অধিদপ্তর সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন সমস্যার নিরসন এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের মধ্যে বিক্রয়ের জন্য ৮৮৮১টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করছে। রাজধানীর কুড়াইল এলাকায় অংশীদারত্বের ভিত্তিতে প্রায় ৫০০০ ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে পূর্বাচলে দেশের সর্বোচ্চ ১৩০ তলা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রঃ
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থল সীমানা সংক্রান্ত Land Boundary Agreement 1974 (মুজিব ইন্দিরা চুক্তি) অনুসমর্থন দলিল বিনময়ের মাধ্যমে কার্যকর হয়েছে। ১ আগষ্ট ২০১৫ কে Appointed day হিসেবে নির্ধারণপূর্বক উভয় দেশের মধ্যে ভূমি বিনিময় সম্পন্ন হয়। ফলে অপদখলীয় ভূমিসহ বাংলাদেশের মূল ভূখন্ডে অবস্থিত সকল ভারতীয় ছিটমহল বাংলাদেশের এবং ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত সকল বাংলাদেশী ছিটমহল ভারতের ভূখন্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও কঠোর পরিশ্রমে দীর্ঘদিনের সমস্যা নিরসন হয়। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর আধুনিকায়ন ও সীমান্তের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিদ্যমান ৫২৭টি বর্ডার অপারেশন পোষ্ট (বিওপি) এর অতিরিক্ত ৮০টি বিওপি নির্মাণ করা হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিসহ প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ বাংলাদেশি নাগরিকদের মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (MRP) এবং প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার মেশিন রিডেবল ভিসা (MRV) প্রদান করা হয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনঃ

৪ হাজার ৩শ ২ লক্ষ টাকা ব্যায়ে চট্টগ্রামস্থ হোটেল সৈকতের জমিতে ১০ তলা বিশিষ্ট নতুন পর্যটন মোটেল নির্মাণ সমাপ্তির পথে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের টার্মিনাল ১ ও ২, অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল, ভি ভি আইপি কমপ্লেক্স, কন্ট্রোল টাওয়ার ভবন ও পাওয়ার হাউজ ফায়ার ডিটেকশন ও এলার্ম সিস্টেম স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেড এর লাভের পরিমাণ ২৩৩.০৬ কোটি টাকা (অনিরীক্ষিত)।

বস্ত্র ও পাটঃ

বস্ত্র ও পাট খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে তা নিরসনের জন্য পাট আইন ২০১৫, বস্ত্রশিল্প প্রতিষ্ঠান আইন ২০১৫ ও বস্ত্রনীতি ২০১৫ প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পরিবেশ বান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যবহার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন ২০১০ এর আওতায় ধান,চাল,গম,ভুট্টা, সার ও চিনি মোড়কীকরণে পাটের ব্যাগ ব্যবহার বাধ্যতামূল্ক করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষাঃ



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী চিন্তা চেতনায় বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিকে যুগোপযোগী ও আধুনিকায়নের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিএমএ বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণ, ভাটিয়ারী, চট্টগ্রাম শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ত হয়েছে। বিমান বাহিনী্ ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণ শক্তিশালী ও গতিশীল করার লক্ষ্যে বিএএফএ বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণ যশোর শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। Upgradation of Agro-Metrological Services শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে ৭টি কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার স্থাপন করা হয়েছে। Improvement of Digital Mapping, System of Survey of Bangladesh (Revised) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ঢাকা, রংপুর, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও মৌলভীবাজারে ৬টি Permanent GNSS/GPS Station, Digital Mapping Unit (DMU) স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া সমগ্র দেশের Aerial Photography সম্পন্নকরণ সহ আন্তর্জাতিক সীমান্ত উপকূল ও সুন্দরবন এলাকার জন্য Sattelite Image ক্রয় করা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কঃ

সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ভাতা ৮০০০ টাকায় এবং ভাতাভোগীদের সংখ্যা ২ লক্ষে উন্নীত করা হয়েছে এবং ৬৭৬ জন খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাকে মাসিক ২০০০০ টাকা এবং বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মাসিক ১৫০০০ টাকা হারে সম্মানী ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণির যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, মৃত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারবর্গের মাসিক রাষ্ট্রীয় ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করে পঙ্গুত্বের হার অনুযায়ী মাসিক সর্বনিম্ন ১৮০০০ টাকা এবং মাসিক সর্বোচ্চ ৪৮০০০ টাকা হারে ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য নিয়মিত ভাতা প্রদান একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ভূমিহীন ও অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাসস্থান নির্মাণ প্রকল্পটিতে ২৯৭১টি বাসস্থান নির্মাণের সংস্থান রাখা হয়েছে। জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৪৩টি জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সকল উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে ৮১টি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৫৯টি স্মৃতিস্তভের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে।

ধর্মঃ

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় দুই বছরে ১,৫০০০০টি শিশুকে প্রাক প্রাথমিক ও নৈতিকতা শিক্ষা, ১০,২৯০০০ জন কিশোর কিশোরীকে সহজ কুরআন ও নৈতিকতা শিক্ষা এবং ৩৮,৪০০ জন নিরক্ষর বয়স্ক ব্যক্তিকে অক্ষরজ্ঞানদানসহ নৈতিকতা শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে। ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার এবং দুঃস্থ পুনর্বাসনের লক্ষ্যে মোট ৪২,৯৮,৮৬০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ২০১৫ সাল থেকে হজ ব্যবস্থাপনা সিস্টেমে সকল হজযাত্রীর অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে। প্রত্যেক হজযাত্রীকে এসএমএস এর মাধ্যমে হজ পূর্ব ৬টি নোটিফিকেশন প্রেরণ এবং মোবাইলের TVR সিস্টেমের মাধ্যমে হজ বুলেটিন ও তথ্য সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
সংস্কৃতিঃ
জাতীয় জীবনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ ১৫ জন সুধীকে একুশে পদক ২০১৫ প্রদান করা হয়েছে। ২০১৪ এ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সংস্কৃতি বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক এবং ২০১৫ এ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১৫-১৭ মেয়াদে সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রম স্বাক্ষরিত হয়। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বেসরকারি পাঠাগার অনুদান খাতে ১ হাজার ২৫টি পাঠাগারে ২ কোটি ২৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। এছাড়া চারুশিল্প, থিয়েটার ইত্যাদি খাত থেকে ৪ কোটি ৮৬ লক্ষ ১৫ হাজার কোটি টাকা দেশের ১,১৭৪টি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অনুদান প্রদান করা হয়।
পানি সম্পদঃ

গত ২ বছরে ১৯২.৪২ কিলোমিটার নদী খনন/ড্রেজিং সমাপ্ত হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাপিটাল (পাইলট) ড্রেজিং অফ রিভার সিস্টেম ইন বাংলাদেশ প্রকল্পের আওতায় যমুনা নদীতে ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় পরীক্ষামূলক ড্রেজিং সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রাপ্ত ড্রেজড ম্যাটেরিয়ালস দ্বারা সিরাজগঞ্জ শহর সংলগ্ন নদী তীরবর্তী অংশে চারটি ক্রসবার নির্মাণ করা হয়। এতে প্রায় ১৬ বর্গকিলোমিটার ভূমি স্থায়ীভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়। উপকূলীয় এলাকায় নতুন জেগে উঠা চরে সমাপ্তকৃত চর ডেভেলপমেন্ট ও সেটেলমেন্ট প্রকল্পসমূহের আওতায় ১৭,৫৩৩ ভূমিহীন পরিবারকে ১৪,৭৯২ হেক্টর জমি স্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে।
যুব ও ক্রীড়াঃ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতা ও খেলাধূলার প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগের ফলে ক্রিকেট আজ বাংলাদেশকে বিশ্বে পরিচিত করে তুলেছে। ওয়ার্ল্ড টি টুয়েন্টি বাংলাদেশ ২০১৪ ও এশিয়া কাপ ক্রিকেট ২০১৪ এর সফল আয়োজন করে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ভারতকে হারিয়ে সাফ অনুর্ধ্ব ১৬ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা অর্জন করে এবং বিশ্ব হকি লীগের প্রথম পর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়। দেশের দরিদ্রতম ১৭টি জেলার ১৭টি উপজেলায় ন্যাশনাল সার্ভিস কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে এবং ১৪,৭১৮ জনকে প্রশিক্ষণ শেষে অস্থায়ী কর্মসংস্থানে নিযুক্ত করা হয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশের দরিদ্রতম ২০টি উপজেলায় এ কর্মসূচী বাস্তবায়নে নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণতা, দূরদর্শীতা ও রাষ্ট্রনায়কোচিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবার দ্বারপ্রান্তে। ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান সরকারের ধারাবাহিক দুই মেয়াদে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের অগ্রযাত্রার ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হয়েছে। ২০২১ সালে মধ্য আয়ের দেশ হিসাবে বাংলাদেশ বিশ্বে পরিচিতি পাবে- এলক্ষ্যে মহাজোট সরকারের নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের এ ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারলে বাংলাদেশ অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হবে।

Wednesday, December 9, 2015

যুদ্ধাপরাধ: মুক্তাগাছায় আক্কাস গ্রেপ্তার

যুদ্ধাপরাধ: মুক্তাগাছায় আক্কাস গ্রেপ্তার
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার রেজাউল করিম ওরফে আক্কাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। যুদ্ধাপরাধ: মুক্তাগাছার ৮ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা ধবার গ্রামের বাড়ি পূর্বচেচুয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান মুক্তাগাছা থানার ওসি আবু মোহাম্মদ ফজলুল করিম।দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আক্কাসসহ আটজনের
বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেয়।‘সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে’ মুক্তাগাছার ‘রাজাকার’ হিসেবে পরিচিত আক্কাসসহ আট আসামিকে গ্রেপ্তারে বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশন আবেদন করে।বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল একইদিন আবেদনের শুনানি করে।রেজাউল করিম ওরফে আক্কাস মৌলভী (৭০) চেচুয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার।স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি ফজলুল করিম জানান, পূর্বচেচুয়া গ্রামের মৃত মুসলেম উদ্দিনের ছেলে রেজাউল মুক্তিযুদ্ধের সময় মাদ্রাসা ছাত্র থাকা অবস্থায় আলবদর বাহিনীতে যোগ দেন।তার বিরুদ্ধে ওই সময় সুবর্ণখিলা গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা আহমদ আলীসহ দুই মুক্তিযোদ্ধা হত্যা, চেচুয়ায় হিন্দুবাড়িতে গণহত্যা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে বলে জানান ওসি।  তিনি জানান, স্বাধীনতার পর আক্কাস আত্মগোপন করেন। পরে নিজের নাম পরিবর্তন করে এ এস এম রেজাউল হক লেখেন।

আউটসোর্সিংয়ে ৫ বছরে দুই লাখ কর্মসংস্থান হবে: সজীব ওয়াজেদ জয়

আউটসোর্সিংয়ে ৫ বছরে দুই লাখ কর্মসংস্থান হবে: জয়

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের মধ্যে আউটসোর্সিংকে আয়ের অন্যতম উপখাত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরে এ খাত থেকে আয় বিলিয়ন ডলার এবং দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।বুধবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে প্রথম ‘বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং সামিট-২০১৫’ (বিপিও) এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জয় তরুণদের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানান।

সরকারের আইসিটি বিভাগ থেকে আউটসোর্সিংয়ের ওপর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “গত বছর প্রায় ৩০ হাজার মত প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আগামী বছর থেকে ৫০ হাজার জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
“বর্তমানে আউটসোর্সিং থেকে আয় ১০০ মিলিয়ন ডলার এবং কর্মসংস্থান ২৫ হাজার হলেও আগামী পাঁচ বছরে তা এক বিলিয়ন ডলার এবং দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য রয়েছে।”
দেশে আউটসোর্সিংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়াতে সরকারের তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগ এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং যৌথভাবে দুদিনের বিপিও সামিটের আয়োজন করেছে।
দেশি-বিদেশি তথ্যপ্রযুক্তি খাতের পেশাদার ও কোম্পানি প্রতিনিধিরা এই আয়োজনে যোগ দিয়েছেন।   
আউটসোর্সিংয়ে ১৮ থেকে ৩৫ বছরের তরুণদের সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে বলেন, “এখানে আমাদের ভবিষ্যৎ তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে চাই আমরা। এটাই হচ্ছে আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশের, আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্দেশ্য।”
জয় বলেন, “আজ থেকে ছয় বছর আগে আমরা যখন ডিজিটাল বাংলাদেশের যাত্রা আরম্ভ করি, তখন কিন্তু আজকে যে অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছেন, তার কিছুই ছিল না। কেউ কল্পনা করতে পারেনি যে বাংলাদেশ এত অল্প সময়ের মধ্যে এতদূর এগিয়ে আসতে পারবে এই খাতে।”
তিনি জানান, ছয় বছর আগে আইসিটি খাতে মোট রপ্তানি ছিল ২৬ মিলিয়ন ডলার এবং কর্মসংস্থান ছিল কয়েক হাজার মানুষের। কিন্তু এসময়ের মধ্যে আইসিটি খাতের রপ্তানি ৩০০ মিলিয়ন পার হয়ে গেছে এবং কর্মসংস্থান হয়েছে দুই লাখেরও বেশি মানুষের।
“এরমধ্যে বিপিও সেক্টরেই কর্মসংস্থান আছে ২৫ হাজারের বেশি। ছয় বছর আগে বিপিও সেক্টর বলতে বাংলাদেশে কিছুই ছিল না,” বলেন জয়।
এই খাতকে আরো বড় করতে মানবসম্পদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সরকার সৃষ্টি করছে বলে জানান তিনি। 
জয় বলেন, “আমরা চাই, আমাদের তরুণরা উদ্যোক্তা হোক। নিজেদের উদ্যোগে তারা আউটসোর্সিং, ফ্রিল্যান্সিং, আইটি কোম্পানি করুক, যেখানে তারা নিজেদের কর্মসংস্থান এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারবে এবং দেশটাকেও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।”
দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য পোশাক খাতের চেয়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আয় কয়েকগুণ বেশি এবং ভবিষ্যতে পোশাক রপ্তানির চেয়ে আইটি পণ্য রপ্তানি বেশি হওয়া উচিৎ বলে মনে করেন তিনি।
কম্পিউটার বিজ্ঞানে নিজের স্মাতক করার কথা উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদেরও তথ্যপ্রযুক্তিতে পড়ার আগ্রহ বাড়ানোর পরামর্শ দেন জয়।    

A freedom fighter is honored in all lands and in all times

A freedom fighter is honored in all lands and in all times, because he fights for a noble cause which is the freedom of the motherland. Freedom is the birthright of man, but sometimes this right is denied to a nation by foreign rulers. As a result, armed conflict takes places between and if freedom-loving people
and the occupation forces. Sometimes the war continues for years and if the people are united and determined then the freedom fighters win and the country achieves independence. The people of Bangladesh fought a glorious war of independence against the Pakistani occupation forces in 1971. In this Great War the Bangali members of the armed forces the students and the people from all walks of life took part. They fought for long nine months and defeated the well-trained Pakistani forces. Bangladesh became a free country. The people who fought against the Pakistani army and the people who took part in the war effort are called the freedom fighters. Many of the freedom fighters sacrificed their lives for the cause of the motherland. We owe our freedom of these noble freedom sacrificed their lives for the cause of the motherland. We owe our freedom of these noble freedom fighters. The freedom fighters will remain immortal in the history of Bangladesh
Mukti Bahini (Bengali: মুক্তি বাহিনী "Liberation Army"), also termed as the "Freedom Fighters" or FFs, collectively refers to the armed organizations who fought against the Pakistan Army during theBangladesh Liberation War. It was dynamically formed by (mostly) Bengali regulars and civilians after the proclamation of Bangladesh's independence on March 26, 1971. Subsequently by mid-April 1971, the Bengali officers and soldiers of East Bengal Regiments formed the "Bangladesh Armed Forces" and M. A. G. Osmani assumed its command. The civilian groups continued to assist the armed forces during the war. After the war Mukti Bahini became the general term to refer to all forces (military and civilian) of former East Pakistani
origin fighting against the Pakistani armed forces during the Bangladesh Liberation War. Often Mukti Bahini operated as an effectiveguerrilla force to keep their enemies on the run. Inspired in part by revolutionary Che Guevara,[1]they have been compared to the French Maquis, Viet Cong, and the guerrillas of Josip Broz Tito in their tactics and effectiveness.[2]
Contents
1 Origins
2 Organization during war
3 Regular and irregular forces
o 3.1 Bangladesh Navy
o 3.2 Bangladesh Air Force
o 3.3 Independent forces
o 3.4 Leftist factions
4 Sectors of Liberation War
5 Mukti Bahini in the final phase
6 See also
7 References
8 Further reading
9 External links
Although Mukti Bahini was formed to fight off the military crackdown by the Pakistan army on March 25, 1971 during the climax of the Bangladesh freedom movement, The crisis had already started taking shape with anti-Ayub uprising in 1969 and precipitated into a political crisis at the height of Sheikh Mujibur Rahman's Six-point movement beginning in the 1970s. In March 1971, rising political discontent andcultural nationalism in what was then East Pakistan (later, Bangladesh) was met by harsh[3] suppressive force from the ruling elite of the West Pakistan establishment[4] in what came to be termed Operation Searchlight.[5] India started actively aiding and re-organising what was by this time already the nucleus of the Mukti Bahini.This led to a crackdown by West Pakistan forces[6] became an important factor in precipitating the civil war as a sea of refugees (estimated at the time to be about 10 million)[7][8] came flooding to the eastern provinces of India.
The immediate precursor of the Mukti
Bahini was Mukti Fauj ("Fauj" is the Urdu originally from Persian borrowed from Arabic for "Brigade" exported into several languages in South Asia including Bengali), which was preceded denominationally by the sangram parishads formed in the cities and villages by the student and youth leaderships in early March 1971. When and how the Mukti Fauj was created is not clear nor is the later adoption of the name Mukti Bahini. It is, however, certain that the names originated generically refer to the people who fought in the Bangladesh liberation war. Since the anti-Ayub uprising in 1969 and during the height of Mujib's six points movement, there was a growing movement among the Bengalis in East Pakistan to become independent driven by the nationalists, radicals and leftists. After the election of 1970, the subsequent crisis strengthened that feeling within the people. Sheikh Mujib himself was facing immense pressure from most prominent political quarters, especially the ultra-nationalist young student leaders, to declare independence without delay. Armed preparations were going on by some leftist and nationalist groups, and the Bengali army officers and soldiers were prepared to defect. At the call of Sheikh Mujibur Rahman the people of East Pakistan joined in a peaceful movement for non-cooperation from 3 March 1971, and 7th march and onward, which lasted up to midnight of 25 March 1971. On this date the Pakistani Army cracked down upon unarmed civilians to take control of the administration. During the army crackdown on the night of March 25, 1971, there were reports of small scale resistance notably at Iqbal Hall, Dhaka University and at the Rajarbagh Police Headquarter. The latter initially put a strong fight against the Pakistan Army. As political events gathered momentum, the stage was set for a clash between the Pakistan Army and the Bengali people vowing for independence. Bengali members of the Army were also defecting and gathering in various pockets of the country.
All these early fights were disorganized and futile
because of the greater military strength of the Pakistani Army. Outside of Dhaka, resistance was more successful. The earliest move towards forming a liberation army officially came from the declaration of independence made by Major Ziaur Rahman of East Bengal Regiment on behalf of Sheikh Mujibur Rahman. In the declaration made from Kalurghat Betar Kendra (Chittagong) on March 27, 1971, Zia assumed the title of "provisional commander in chief of the Bangladesh Liberation Army", though his area of operation remained confined to Chittagong and Noakhali areas. Major Ziaur Rahman's declaration on behalf of Sheikh Mujibur Rahman marked a break with Pakistan by the Bengali units of the army.
Organization during war
See also: Mujibnagar Government
Though prolonged Bengali resistance was not anticipated by Pakistani planners of Operation Searchlight,[9] when the Pakistani Army cracked down upon the population, the Mukti Bahini were becoming increasingly visible. Headed by Colonel (later, General) M. A. G. Osmani, a retired Pakistani Army officer, this band was raised as Mujib's action arm and security force before assuming the character of a conventional guerrilla force. After the declaration of independence, the Pakistani military sought to quell them, but increasing numbers of Bengali soldiers defected to the underground "Bangladesh army". These Bengali units slowly merged into the Mukti Bahini and bolstered their weaponry.
On April 12, 1971 Colonel (later General) M. A. G. Osmani assumed the command of armed forces at Teliapara (Sylhet) headquarters. Osmani was made the commander-in-chief of Bangladesh Armed Forces on April 17, 1971. Serious initiative for organising the Bangladesh liberation army was taken between 11–17 July. In a meeting of the sector commanders in Kolkata, four important resolutions were taken in consideration of strategic
aspects of the war, existing problems and future course of resistance. These were:
Composition and tactics of the combatants would be as follows:
Guerrilla teams comprising 5 to 10 trained members would be sent to specific areas of Bangladesh with specific assignments
Combat soldiers would carry out frontal attacks against the enemy. Between 50 and 100 per cent would carry arms. Intelligence volunteers would be engaged to collect information about the enemy. 30 percent of these people would be equipped with weapons;
The regular forces would be organised into battalions and sectors.
The following strategies would be adopted while carrying out military operations against the enemy
A large number of guerrillas would be sent out inside Bangladesh to carry out raids and ambushes;
Industries would be brought to a standstill and electricity supply would be disrupted;
Pakistanis would be obstructed in exporting manufactured goods and raw materials;
Communication network would be destroyed in order to obstruct enemy movements;
Enemy forces would be forced to disperse and scatter for strategic gains;
The whole area of Bangladesh would be divided into 11 sectors.
Other than the organizations of Mukti Bahini who were generally trained and armed by the Indian Army, there were independent guerrilla groups led by individual leaders, either nationalists or leftists, who were successfully controlling some areas.
Regular and irregular forces
Leaflets and pamphlets played an important role in driving public opinion during the war.
The regular forces later called Niomita Bahini (regular force) consisted of the members of the East Bengal Regiments (EBR), East Pakistan Rifles (EPR, later BDR), police, other paramilitary forces and the general people who were commanded by the army commanders in the 11 sectors all over Bangladesh. Three major forces: Z-Force under the command of Major (later, Major General) Ziaur Rahman, K-Force under Major (later Brigadier ) Khaled Mosharraf and S-Force under Major (later Major General) K M Shafiullah were raised afterwards to fight battles in efficient manners. The irregularforces, generally called Gono Bahini (people's army), were those who were trained more in guerrilla warfare than the conventional one.
The irregular forces, which after initial training joined different sectors, consisted of the students, peasants, workers and political activists. Irregular forces were initiated inside Bangladesh province to adopt guerrilla warfare against the enemy. The regular forces were engaged in fighting the usual way.
The Mukti Bahini obtained strength from the two main streams of fighting elements: members of armed forces of erstwhile East Pakistan and members of the urban and rural youths many of whome were volunteers.
Other groups included members of sangram parishads, youth and student wings of Awami League, NAP, Leftist-Communist Parties and radical groups. The Mukti Bahini had several factions. The foremost one was organized by the members of the regular armed force, who were generally known as Freedom Fighters (FF). Then there was Bangladesh Liberation Forces (BLF) led by four youth leaders of the political wing of Sheikh Mujib's Awami League and the third one generally known as Special Guerrilla Forces (SGF) led by the Communist Party of Bangladesh, National Awami Party, and Bangladesh Students Union. They then jointly launched guerrilla operations against the Pakistani Army causing heavy damages and casualties. This setback prompted the Pakistani Army to induct Razakars, Al-Badrs and Al-Shams (mostly members ofJamaat-e-Islami and other Islamist groups), as well as other Bengalis who opposed independence, and Biharis who had settled during the time of partition. This helped Pakistan stem the tide somewhat as the monsoon approached in the
months of June and July.
Bangladesh Navy
Bangladesh Navy was constituted in August 1971. Initially, there were two ships and 45 navy personnel. These ships carried out many successful raids on the Pakistani fleet. But both of these ships were mistakenly hit and destroyed by Indian fighter planes on 10 December 1971, when they were about to launch a major attack on Mongla seaport.
Bangladesh Air Force
Bangladesh Air Force started functioning on 28 September at Dimapur in Nagaland, under the command of Air Commodore AK Khondakar. Initially, it consisted of 17 officers, 50 technicians, 2 planes and 1 helicopter. The Air Force carried out more than twelve sorties against Pakistani targets and was quite successful during the initial stages of the Indian attack in early December.
Independent forces
In addition, there were also some independent forces that fought in various regions of Bangladesh and liberated many areas. These includedMujib Bahini which was organized in India. Major General Oban of the Indian Army and Student League leaders Serajul Alam Khan, Sheikh Fazlul Haque Mani, Kazi Arif Ahmed, Abdur Razzak, Tofael Ahmed, A. S. M. Abdur Rab, Shahjahan Siraj, Nur E Alam Siddiqi, and Abdul Quddus Makhon were organisers of this Bahini. There was the Kaderia Bahini under Kader Siddique of Tangail, Afsar Bahini and Aftab Bahiniof Mymensingh,Tiger Bahini under Abu Siddique Ahmed of Netrakona Latif Mirza Bahini of Sirajganj, Akbar Hossain Bahini of Jhinaidah,Quddus Molla and Gafur Bahini of Barisal, Hemayet Bahini under Hemayet Uddin of Faridpur..There were also several communist/leftist groups who clashed with the Pakistan Army, and controlled some areas independently.
Leftist factions
In addition,there were some other groups of freedom fighters which were controlled by the Leftist parties and groups including the NAP and Communist Parties. Among others, Siraj Sikder raised a strong guerrilla force which fought several battles with the Pakistani soldiers in Payarabagan, Barisal. Although there were ideological conflicts among the communist parties (most notably, split into pro-soviet and pro-Chinese factions and widespread split within the pro-Chinese faction) on deciding a common action in the context of Bangladesh Liberation, many of the individuals and leaders of Mukti Bahini were deeply influenced by the leftist ideology in general. There were strong concerns among the Indian authority and members of the Awami League led provisional government not to lose the control of the liberation war to the leftists. Nevertheless many leftists overcame these internal and external difficulties and actively participated in the Liberation war with the main nucleus of the Mukti Bahini.
Sectors of Liberation War
The eleven sectors
Main article: List of Sectors in Bangladesh Liberation War
Immediately after formation, the new government of Bangladesh shifted its focus on organizing the war against Pakistan Army. A Cabinet meeting of Bangladesh government on July 11, 1971
appointed Col. M. A. Goni Osmani as Commander in Chief, Lt. Col. Abdur Rab as Chief of Army Staff and Group Captain A K Khandker as Deputy Chief of Army Staff and Chief of Air Force.
In this meeting Bangladesh was divided into Eleven Sectors and each Sector was assigned a Sector Commander. The 10th Sector was directly placed under the Commander in Chief (C-in-C) and included the Naval Commandos and C-in-C’s special force.[10]
The Sector Commanders were chosen from defected officers of Pakistan army who joined the Mukti Bahini. These trained officers directed the guerrilla warfare as well as trained the independence militia who lacked formal training on military operations. Most of these training camps were situated near the border area and were operated with direct assistance from India.
For better efficiency in combat operations, each of the sectors were divided into a number of sub-sectors. The table below provides a list of the sectors along with the name of the sector commanders.
Sectors of Bangladesh Liberation War
Sector Area Sector Commander
1 Chittagong District, Chittagong Hill Tracts, and the entire eastern area of theNoakhali District on the banks of the river Muhuri.
Major Ziaur Rahman, later replaced by Major Rafiqul Islam
2 Districts of Dhaka, Comilla, Faridpur, and part of Noakhali District.
Major Khaled Mosharraf, later replaced by Major ATM Haider
3 Area between Churaman Kathi (near Sreemangal) and Sylhet in the north and Singerbil of Brahmanbaria in the south.
Major KM Shafiullah, later replaced by Major ANM Nuruzzaman.
4 Area from Habiganj District on the north to Kanaighat Police Station on the south along the 100 mile long border with India.
Major Chittarajan Datta, later replaced by Captain A Rab.
5 Area from Durgapur to Danki (Tamabil) of Sylhet District and the entire area up to the eastern borders of the district.
Major Mir Shawkat Ali
6 Rangpur District and part of Dinajpur District.
Wing Commander M Khademul Bashar
7 Rajshahi, Pabna, Bogra and part of Dinajpur District.
Major Nazmul Huq, later replaced by Subedar Major A Rab and Kazi Nuruzzaman.
8 In April 1971, the operational area of the sector comprised the districts of Kushtia,Jessore, Khulna, Barisal, Faridpur and Patuakhali. At the end of May the sector was reconstituted and comprised the districts of Kuhstia, Jessore, Khulna,Satkhira and the northern part of Faridpur district. Major Abu Osman Chowdhury, later replaced by Major MA Manzur.
9 Barisal, Patuakhali, and parts of the district of Khulna and Faridpur.
Major M A Jalil later replaced by Major MA Manzur and Major Joynal Abedin.
10 This sector was constituted with the naval commandos. Indian commander MN Sumanta.
11 Mymensingh and Tangail.
Major M Abu Taher, later replaced by Squadron Leader Hamidullah.
Source: Sectors of the War of Liberation; Shirin, S. M.; Banglapedia.
Mukti Bahini in the final phase
The liberation forces started carrying out massive raids into enemy fronts from October 1971. After the signing of the Indo-Soviet Treaty in August 1971, India began to demonstrate more interest in the Bangladesh war. Eventually India legally entered the war on 3 December 1971 (Indo-Pakistani War of 1971) after Pakistan's preemptive air raids on some Indian cities in the western border. In fact, the Indian soldiers were already participating in the war in different guises since November when the independence fighters had launched the Belonia battle. When the Indian Army planned to avoid battles and seize the capital Dhaka in the shortest campaign possible, the Mukti Bahini made the task much easier by confining the Pakistani army and holding them back from moving towards to capital.
Despite the difficult terrain of Bangladesh, the war was won rapidly. Dhaka was liberated in a matter of two weeks.
The Mukti Bahini were a major contributing factor in the Indian Victory fighting both as irregulars, and as conventional forces alongside the Indians. Several actions in the heart of the capital and the killing of Monaem Khan, a loyalist, anti-Bengali and ex-governor of East Pakistan, proved the effectiveness and capability of the guerrillas.
On 16 December 1971, commander of the 14 division of Pakistan army Major General Jamshed surrendered to Indian General Nagra near Mirpur bridge in Dhaka. At 10.40 am, the Indian allied force and Kader Siddique entered Dhaka city. That signaled the end of the 9-month long War of Liberation of Bangladesh. Scattered battles were still waged at various places of the country.
The Commander of Eastern Command of the Pakistan Army, Lt. General A. A. K. Niazi surrendered to the commander of the joint Indo-Bangladesh force and the chief of Indian eastern command Lt. General Jagjit Singh Arora. The Bangladesh Forces were represented at the ceremony by Group Captain A. K. Khandker.
Mitro Bahini
References
1. ^ Dangerous Liaison by Raza Naeem, Frontline, Volume 26 - Issue 15, July 18–31, 2009
2. ^ Why the Movement for Bangladesh Succeeded: A military appreciation by Mumtaz Iqbal
3. ^ Genocide in Bangladesh, 1971. Gendercide Watch.
4. ^ Emerging Discontent, 1966-70. Country Studies Bangladesh
5. ^ Anatomy of Violence: Analysis of Civil War in East Pakistan in 1971: Military Action: Operation Searchlight Bose S Economic and Political Weekly Special Articles, October 8, 2005
6. ^ The Pakistani Slaughter That Nixon Ignored , Syndicated Column by Sydney Schanberg, New York Times, May 3, 1994
7. ^ a b Crisis in South Asia - A report by Senator Edward Kennedy to the Subcommittee investigating the Problem of Refugees and Their Settlement, Submitted to U.S. Senate Judiciary Committee, November 1, 1971, U.S. Govt. Press.pp6-7
8. ^ India and Pakistan: Over the Edge. TIME Dec 13, 1971 Vol. 98 No. 24
9. ^ Pakistan Defence Journal, 1977, Vol 2, p2-3
10. ^ Bangladesh Liberation Armed Force, Liberation War Museum, Bangladesh.
Jagjit singh Arora